০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ    এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাকরি-ঝড়, নতুন ফেড ও ‘দুই গতির’ মূল্যস্ফীতি: বিশ্ব অর্থনীতি কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে?

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার পৌঁছে গেছে জাপানের জনপ্রিয় স্ন্যাকস শিল্পেও। জাপানের শীর্ষ খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যালবি জানিয়েছে, কাঁচামালের ঘাটতির কারণে তারা সাময়িকভাবে তাদের রঙিন স্ন্যাকস প্যাকেট বাদ দিয়ে সাদা-কালো মোড়কে পণ্য বাজারে আনবে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্যালবি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে পণ্যের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে, প্যাকেটের রঙ বদলালেও খাবারের মান বা স্বাদে কোনো পরিবর্তন হবে না।

নাফথা সংকটেই মূল সমস্যা

ক্যালবির এক মুখপাত্র জানান, সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘নাফথা’ নামে অপরিশোধিত তেলজাত একটি উপাদান, যা ছাপার কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নাফথার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে রঙিন প্যাকেজিং চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাপানসহ এশিয়ার বহু দেশ ইতোমধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করছে। জাপান তার মোট তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং নাফথার প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে অঞ্চলটিতে অস্থিরতা তৈরি হলেই জাপানের শিল্পখাতে সরাসরি চাপ পড়ে।

শুধু খাদ্যশিল্প নয়, বিভিন্ন খাতে প্রভাব

নাফথা মূলত প্লাস্টিক উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপানের বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, এই সংকটের কারণে টোফু, চা পাতা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া গাড়ি, রঙ ও বাথরুম সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী শিল্পেও নাফথা সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শিল্পখাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছে।

Iran war makes Japanese crisp packs go colorless | Daily Sabah

সরকারের আশ্বাস

জাপানের মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা কেই সাতো মঙ্গলবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “প্রিন্টিং ইঙ্ক বা নাফথার তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি। জাপানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ এখনো নিশ্চিত রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

১৪টি পণ্যে আসছে সাদা-কালো মোড়ক

ক্যালবি জানিয়েছে, মে মাস থেকেই তাদের ১৪টি পণ্য সাদা-কালো প্যাকেটে বাজারে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে হালকা লবণযুক্ত আলুচিপস, কনসোমে পাঞ্চ, সি-উইড ফ্লেভারসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় চিপস।

এছাড়া তাদের বিখ্যাত ‘কাপ্পা এবিসেন’ চিংড়ি-স্বাদের স্টিকস এবং গ্র্যানোলাও এই পরিবর্তনের আওতায় পড়ছে।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালবি বর্তমানে জাপানের স্ন্যাকস বাজারের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। দেশটির আলুচিপস বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব প্রায় ৭০ শতাংশ। তাই তাদের এই সিদ্ধান্ত জাপানের খাদ্যশিল্পে যুদ্ধের প্রভাব কতটা গভীর হচ্ছে, সেটিরও বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট

০৯:১৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার পৌঁছে গেছে জাপানের জনপ্রিয় স্ন্যাকস শিল্পেও। জাপানের শীর্ষ খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যালবি জানিয়েছে, কাঁচামালের ঘাটতির কারণে তারা সাময়িকভাবে তাদের রঙিন স্ন্যাকস প্যাকেট বাদ দিয়ে সাদা-কালো মোড়কে পণ্য বাজারে আনবে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্যালবি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে পণ্যের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে, প্যাকেটের রঙ বদলালেও খাবারের মান বা স্বাদে কোনো পরিবর্তন হবে না।

নাফথা সংকটেই মূল সমস্যা

ক্যালবির এক মুখপাত্র জানান, সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘নাফথা’ নামে অপরিশোধিত তেলজাত একটি উপাদান, যা ছাপার কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নাফথার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে রঙিন প্যাকেজিং চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাপানসহ এশিয়ার বহু দেশ ইতোমধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করছে। জাপান তার মোট তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং নাফথার প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে অঞ্চলটিতে অস্থিরতা তৈরি হলেই জাপানের শিল্পখাতে সরাসরি চাপ পড়ে।

শুধু খাদ্যশিল্প নয়, বিভিন্ন খাতে প্রভাব

নাফথা মূলত প্লাস্টিক উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপানের বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, এই সংকটের কারণে টোফু, চা পাতা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া গাড়ি, রঙ ও বাথরুম সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী শিল্পেও নাফথা সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শিল্পখাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছে।

Iran war makes Japanese crisp packs go colorless | Daily Sabah

সরকারের আশ্বাস

জাপানের মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা কেই সাতো মঙ্গলবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “প্রিন্টিং ইঙ্ক বা নাফথার তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি। জাপানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ এখনো নিশ্চিত রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

১৪টি পণ্যে আসছে সাদা-কালো মোড়ক

ক্যালবি জানিয়েছে, মে মাস থেকেই তাদের ১৪টি পণ্য সাদা-কালো প্যাকেটে বাজারে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে হালকা লবণযুক্ত আলুচিপস, কনসোমে পাঞ্চ, সি-উইড ফ্লেভারসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় চিপস।

এছাড়া তাদের বিখ্যাত ‘কাপ্পা এবিসেন’ চিংড়ি-স্বাদের স্টিকস এবং গ্র্যানোলাও এই পরিবর্তনের আওতায় পড়ছে।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালবি বর্তমানে জাপানের স্ন্যাকস বাজারের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। দেশটির আলুচিপস বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব প্রায় ৭০ শতাংশ। তাই তাদের এই সিদ্ধান্ত জাপানের খাদ্যশিল্পে যুদ্ধের প্রভাব কতটা গভীর হচ্ছে, সেটিরও বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।