০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা, বাংলাদেশে চালু হলো ‘জেন্ডার চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্ক’ ধানক্ষেতে মাটিচাপা অবস্থায় মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, আতঙ্ক জয়পুরহাটে তিস্তা ও চীন সফর ঘিরে নজর রাখছে দিল্লি, বলল ভারত কাতারের সতর্কবার্তা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ না করার আহ্বান তেহরানকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট হ্যান্টাভাইরাস আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা, ক্রুজ জাহাজের প্রাদুর্ভাব দেখাল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ইমরান খানের বোনদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জাপানের সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ ৪০ বছরের গৃহঋণ চালুর পথে ইন্দোনেশিয়া, কমবে মাসিক কিস্তির চাপ শেয়ারবাজারে ফিরছে গতি, তিন সপ্তাহ পর লেনদেন ছাড়াল ১ হাজার কোটি টাকা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার পৌঁছে গেছে জাপানের জনপ্রিয় স্ন্যাকস শিল্পেও। জাপানের শীর্ষ খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যালবি জানিয়েছে, কাঁচামালের ঘাটতির কারণে তারা সাময়িকভাবে তাদের রঙিন স্ন্যাকস প্যাকেট বাদ দিয়ে সাদা-কালো মোড়কে পণ্য বাজারে আনবে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্যালবি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে পণ্যের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে, প্যাকেটের রঙ বদলালেও খাবারের মান বা স্বাদে কোনো পরিবর্তন হবে না।

নাফথা সংকটেই মূল সমস্যা

ক্যালবির এক মুখপাত্র জানান, সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘নাফথা’ নামে অপরিশোধিত তেলজাত একটি উপাদান, যা ছাপার কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নাফথার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে রঙিন প্যাকেজিং চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাপানসহ এশিয়ার বহু দেশ ইতোমধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করছে। জাপান তার মোট তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং নাফথার প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে অঞ্চলটিতে অস্থিরতা তৈরি হলেই জাপানের শিল্পখাতে সরাসরি চাপ পড়ে।

শুধু খাদ্যশিল্প নয়, বিভিন্ন খাতে প্রভাব

নাফথা মূলত প্লাস্টিক উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপানের বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, এই সংকটের কারণে টোফু, চা পাতা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া গাড়ি, রঙ ও বাথরুম সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী শিল্পেও নাফথা সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শিল্পখাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছে।

Iran war makes Japanese crisp packs go colorless | Daily Sabah

সরকারের আশ্বাস

জাপানের মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা কেই সাতো মঙ্গলবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “প্রিন্টিং ইঙ্ক বা নাফথার তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি। জাপানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ এখনো নিশ্চিত রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

১৪টি পণ্যে আসছে সাদা-কালো মোড়ক

ক্যালবি জানিয়েছে, মে মাস থেকেই তাদের ১৪টি পণ্য সাদা-কালো প্যাকেটে বাজারে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে হালকা লবণযুক্ত আলুচিপস, কনসোমে পাঞ্চ, সি-উইড ফ্লেভারসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় চিপস।

এছাড়া তাদের বিখ্যাত ‘কাপ্পা এবিসেন’ চিংড়ি-স্বাদের স্টিকস এবং গ্র্যানোলাও এই পরিবর্তনের আওতায় পড়ছে।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালবি বর্তমানে জাপানের স্ন্যাকস বাজারের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। দেশটির আলুচিপস বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব প্রায় ৭০ শতাংশ। তাই তাদের এই সিদ্ধান্ত জাপানের খাদ্যশিল্পে যুদ্ধের প্রভাব কতটা গভীর হচ্ছে, সেটিরও বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা, বাংলাদেশে চালু হলো ‘জেন্ডার চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্ক’

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট

০৯:১৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার পৌঁছে গেছে জাপানের জনপ্রিয় স্ন্যাকস শিল্পেও। জাপানের শীর্ষ খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যালবি জানিয়েছে, কাঁচামালের ঘাটতির কারণে তারা সাময়িকভাবে তাদের রঙিন স্ন্যাকস প্যাকেট বাদ দিয়ে সাদা-কালো মোড়কে পণ্য বাজারে আনবে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্যালবি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে পণ্যের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে, প্যাকেটের রঙ বদলালেও খাবারের মান বা স্বাদে কোনো পরিবর্তন হবে না।

নাফথা সংকটেই মূল সমস্যা

ক্যালবির এক মুখপাত্র জানান, সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘নাফথা’ নামে অপরিশোধিত তেলজাত একটি উপাদান, যা ছাপার কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নাফথার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে রঙিন প্যাকেজিং চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাপানসহ এশিয়ার বহু দেশ ইতোমধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করছে। জাপান তার মোট তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং নাফথার প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে অঞ্চলটিতে অস্থিরতা তৈরি হলেই জাপানের শিল্পখাতে সরাসরি চাপ পড়ে।

শুধু খাদ্যশিল্প নয়, বিভিন্ন খাতে প্রভাব

নাফথা মূলত প্লাস্টিক উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপানের বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, এই সংকটের কারণে টোফু, চা পাতা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া গাড়ি, রঙ ও বাথরুম সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী শিল্পেও নাফথা সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শিল্পখাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছে।

Iran war makes Japanese crisp packs go colorless | Daily Sabah

সরকারের আশ্বাস

জাপানের মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা কেই সাতো মঙ্গলবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “প্রিন্টিং ইঙ্ক বা নাফথার তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের কোনো রিপোর্ট আমরা পাইনি। জাপানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ এখনো নিশ্চিত রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

১৪টি পণ্যে আসছে সাদা-কালো মোড়ক

ক্যালবি জানিয়েছে, মে মাস থেকেই তাদের ১৪টি পণ্য সাদা-কালো প্যাকেটে বাজারে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে হালকা লবণযুক্ত আলুচিপস, কনসোমে পাঞ্চ, সি-উইড ফ্লেভারসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় চিপস।

এছাড়া তাদের বিখ্যাত ‘কাপ্পা এবিসেন’ চিংড়ি-স্বাদের স্টিকস এবং গ্র্যানোলাও এই পরিবর্তনের আওতায় পড়ছে।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালবি বর্তমানে জাপানের স্ন্যাকস বাজারের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। দেশটির আলুচিপস বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব প্রায় ৭০ শতাংশ। তাই তাদের এই সিদ্ধান্ত জাপানের খাদ্যশিল্পে যুদ্ধের প্রভাব কতটা গভীর হচ্ছে, সেটিরও বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।