বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র বিক্রম মিশ্রি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভারত সবসময় নজর রাখে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়।
ভারতের এক সাংবাদিক তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ-চীন আলোচনার প্রসঙ্গ তুললে বিক্রম মিশ্রি এ মন্তব্য করেন। গত ৫ থেকে ৭ মে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের আমন্ত্রণে চীন সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হলেও সার্বিক আলোচনা ইতিবাচক ছিল। বর্তমানে সম্ভাব্যতা ও গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চীন সফর নিয়ে জল্পনা
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান ভবিষ্যতে অবশ্যই চীন সফর করবেন। তবে তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফরের সময়সূচি ও পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারণেই প্রধান উপদেষ্টার প্রথম বিদেশ সফর চীন হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সরকার জানাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার চীনের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশংসাও করেছে। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই এই সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার এবং ঢাকা এই সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহী।
অবৈধ অভিবাসন ও জ্বালানি সহযোগিতা
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে ভারত ২ হাজার ৮৬০ জনের জাতীয়তা যাচাইয়ের অনুরোধ বাংলাদেশকে জানিয়েছে, যাদের ভারত বাংলাদেশি নাগরিক বলে মনে করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি পরিস্থিতি চাপে থাকলেও ভারত বাংলাদেশকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অতিরিক্ত চাহিদাও পূরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভারতীয় মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়াদিল্লি সফর করেছেন এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও ঢাকা সফর করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে।
তিস্তা প্রকল্প ঘিরে বাংলাদেশ-চীন আলোচনা নিয়ে ভারতের নজরদারি, জ্বালানি সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন বার্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















