স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়ি কেনাকে আরও সহজ করতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। দেশটির সরকার ভর্তুকিযুক্ত গৃহঋণের মেয়াদ ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪০ বছর করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে মাসিক কিস্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইন্দোনেশিয়ার জনআবাসন ও বসতি বিষয়ক মন্ত্রী মারুয়ারার সিরাইত জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আবাসন কেনার আর্থিক চাপ কমানো এবং একই সঙ্গে দেশের সম্পত্তি খাতকে আরও গতিশীল করা।
কিস্তি কমানোর পরিকল্পনা
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভর্তুকিযুক্ত একতলা বাড়ির জন্য ১০ বছরের ঋণে মাসিক কিস্তি প্রায় ১৭ লাখ রুপিয়া। ১৫ বছরের ঋণে তা দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ রুপিয়া। ২০ বছরের ঋণে কিস্তি কমে প্রায় ১১ লাখ রুপিয়ায় নেমে আসে। নতুন ৪০ বছরের মেয়াদ চালু হলে মাসিক কিস্তি আরও কমে ৮ থেকে ৯ লাখ রুপিয়ার মধ্যে চলে আসতে পারে।
সরকারের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা মানুষের বাড়ি কেনার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে আবাসন বাজার সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে এই নীতি।
নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে
মারুয়ারার সিরাইত বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে ডেভেলপার, ব্যাংক এবং ভোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পুরো আবাসন খাতকে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন নীতিমালা কার্যকর করতে চায় সরকার।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু হলে সরকারের বছরে ৩০ লাখ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য পূরণেও গতি আসবে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম বড় আবাসন কর্মসূচি হিসেবে এই প্রকল্পকে দেখা হচ্ছে।
মধ্যবিত্তের জন্যও নতুন সুবিধা
সরকার শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও নতুন অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে। সেখানে প্রথম ১৫ বছরের জন্য ৭ শতাংশ নির্ধারিত সুদহার রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এর পাশাপাশি ভূমি ও ভবন অধিগ্রহণ কর ছাড় এবং ভবন অনুমোদন ফি মওকুফের মতো প্রণোদনাও অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, কম মাসিক কিস্তি মানুষের জন্য আবাসন ঋণ গ্রহণ সহজ করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণে আরও উৎসাহিত হবে।

তবে উদ্বেগও রয়েছে
যদিও শিল্পখাতের অনেক প্রতিনিধি এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবুও কিছু অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন।
তাদের মতে, নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যেখানে আয় অনিয়মিত এবং চাকরির নিরাপত্তা কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে খেলাপির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এছাড়া দীর্ঘ সময়ের ঋণের কারণে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির পরিবর্তনের প্রভাবও বেশি পড়তে পারে। মাসিক কিস্তি কম হলেও পুরো ঋণ মেয়াদে গ্রাহকদের মোট সুদ পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।
আবাসন প্রকল্পে গতি আনার চেষ্টা
সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় আবাসন প্রকল্প চালু করেছে। মার্চে দক্ষিণ জাকার্তার মাঙ্গারাই স্টেশনের কাছে ভর্তুকিযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি পিটি কেরেতা আপি ইন্দোনেশিয়া।
এছাড়া পশ্চিম জাভার চিকারাং এলাকায় মেইকার্তা প্রকল্পেও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটের আবাসন প্রকল্প চালু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















