১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা, বাংলাদেশে চালু হলো ‘জেন্ডার চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্ক’ ধানক্ষেতে মাটিচাপা অবস্থায় মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, আতঙ্ক জয়পুরহাটে তিস্তা ও চীন সফর ঘিরে নজর রাখছে দিল্লি, বলল ভারত কাতারের সতর্কবার্তা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ না করার আহ্বান তেহরানকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট হ্যান্টাভাইরাস আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা, ক্রুজ জাহাজের প্রাদুর্ভাব দেখাল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ইমরান খানের বোনদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জাপানের সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ ৪০ বছরের গৃহঋণ চালুর পথে ইন্দোনেশিয়া, কমবে মাসিক কিস্তির চাপ শেয়ারবাজারে ফিরছে গতি, তিন সপ্তাহ পর লেনদেন ছাড়াল ১ হাজার কোটি টাকা

শুভেন্দুর শপথমঞ্চে সঞ্চালনার পর মুখ খুললেন মধুমন্তী, ‘অনেক জায়গা থেকেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়’

ব্রিগেড ময়দানে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মধুমন্তী মৈত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সেই প্রশংসার পরই নিজের দীর্ঘ কর্মজীবন, অভিজ্ঞতা এবং আক্ষেপ নিয়ে মুখ খুললেন এক সময়ের জনপ্রিয় সংবাদপাঠিকা ও সঞ্চালিকা।

কলকাতা দূরদর্শনের পরিচিত মুখ মধুমন্তী বহু সরকারি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করলেও গত প্রায় ১৫ বছর তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা তাঁর কাছে নতুন নয়। এর আগেও শহরে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তাৎক্ষণিক প্রস্তুতিতে অনুষ্ঠান

মধুমন্তীর কথায়, শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ কোনও পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ পাননি তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও নির্দিষ্ট সূচি দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো অনুষ্ঠানটাই অনেকটা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামলে এগোতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্রিগেড ময়দান রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য উপযুক্ত হলেও এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন পরিচালনা করা বেশ কঠিন। সময়ের অভাব এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। কখন প্রধানমন্ত্রী আসবেন বা মঞ্চে উঠবেন, সেই সময়সূচিও আগে থেকে জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

এসপিজির কড়া নিরাপত্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার সুযোগও হয়নি তাঁর। তবে মধুমন্তীর ধারণা, এত অনুষ্ঠানে কাজ করার সূত্রে প্রধানমন্ত্রী হয়তো তাঁকে মুখচেনা হিসেবে মনে রাখতে পারেন।

প্রশংসায় কৃতজ্ঞ, তবু বিস্মিত

সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সঞ্চালনার প্রশংসা করেছেন বহু মানুষ। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের তরফেও প্রশংসা এসেছে। যদিও এত প্রশংসা পেয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেই রয়েছেন মধুমন্তী।

তাঁর বক্তব্য, তিনি বহু বছর ধরেই এই কাজ করছেন। কিন্তু আগে কখনও এমন উচ্ছ্বাস দেখেননি। তিনি বলেন, এই ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ হলেও এত প্রশংসার কারণ তিনি নিজেও পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না।

শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের দিন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করবেন মমতার :: এটিএন নিউজ

দীর্ঘ কর্মজীবনের আক্ষেপ

কথোপকথনে উঠে আসে তাঁর কর্মজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে।

মধুমন্তীর দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে ধীরে ধীরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও সরকারি অনুষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবু আগের মতো নিয়মিত সুযোগ পাননি। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার অনুষ্ঠান হলে তাঁকে ডাকা হত বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ধরন বদলানোর পর থেকে অন্য সঞ্চালকদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে থাকে। তবে এবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক তাঁর উপর আস্থা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন মধুমন্তী।

‘প্রত্যাবর্তন’ শব্দে আপত্তি

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সুযোগ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নেও খুব বেশি আশাবাদী নন মধুমন্তী। রাতারাতি কাজের পরিস্থিতি বদলে যাবে বলেও মনে করেন না তিনি।

একই সঙ্গে ‘১৫ বছর তাঁকে চেপে রাখা হয়েছিল’— এমন প্রচলিত বক্তব্যের সঙ্গেও পুরোপুরি একমত নন তিনি। বরং তাঁর মতে, তাঁকে নিয়ে ‘প্রত্যাবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করাও ঠিক নয়। কারণ তিনি কখনও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন না।

শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেও, মধুমন্তী মৈত্র নিজের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন— তিনি এই পেশার সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন এবং এখনও রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা, বাংলাদেশে চালু হলো ‘জেন্ডার চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্ক’

শুভেন্দুর শপথমঞ্চে সঞ্চালনার পর মুখ খুললেন মধুমন্তী, ‘অনেক জায়গা থেকেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়’

০৮:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ব্রিগেড ময়দানে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মধুমন্তী মৈত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সেই প্রশংসার পরই নিজের দীর্ঘ কর্মজীবন, অভিজ্ঞতা এবং আক্ষেপ নিয়ে মুখ খুললেন এক সময়ের জনপ্রিয় সংবাদপাঠিকা ও সঞ্চালিকা।

কলকাতা দূরদর্শনের পরিচিত মুখ মধুমন্তী বহু সরকারি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করলেও গত প্রায় ১৫ বছর তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা তাঁর কাছে নতুন নয়। এর আগেও শহরে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তাৎক্ষণিক প্রস্তুতিতে অনুষ্ঠান

মধুমন্তীর কথায়, শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ কোনও পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ পাননি তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও নির্দিষ্ট সূচি দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো অনুষ্ঠানটাই অনেকটা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামলে এগোতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্রিগেড ময়দান রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য উপযুক্ত হলেও এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন পরিচালনা করা বেশ কঠিন। সময়ের অভাব এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। কখন প্রধানমন্ত্রী আসবেন বা মঞ্চে উঠবেন, সেই সময়সূচিও আগে থেকে জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।

এসপিজির কড়া নিরাপত্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার সুযোগও হয়নি তাঁর। তবে মধুমন্তীর ধারণা, এত অনুষ্ঠানে কাজ করার সূত্রে প্রধানমন্ত্রী হয়তো তাঁকে মুখচেনা হিসেবে মনে রাখতে পারেন।

প্রশংসায় কৃতজ্ঞ, তবু বিস্মিত

সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সঞ্চালনার প্রশংসা করেছেন বহু মানুষ। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের তরফেও প্রশংসা এসেছে। যদিও এত প্রশংসা পেয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেই রয়েছেন মধুমন্তী।

তাঁর বক্তব্য, তিনি বহু বছর ধরেই এই কাজ করছেন। কিন্তু আগে কখনও এমন উচ্ছ্বাস দেখেননি। তিনি বলেন, এই ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ হলেও এত প্রশংসার কারণ তিনি নিজেও পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না।

শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের দিন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করবেন মমতার :: এটিএন নিউজ

দীর্ঘ কর্মজীবনের আক্ষেপ

কথোপকথনে উঠে আসে তাঁর কর্মজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে।

মধুমন্তীর দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে ধীরে ধীরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও সরকারি অনুষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবু আগের মতো নিয়মিত সুযোগ পাননি। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষার অনুষ্ঠান হলে তাঁকে ডাকা হত বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ধরন বদলানোর পর থেকে অন্য সঞ্চালকদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে থাকে। তবে এবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক তাঁর উপর আস্থা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন মধুমন্তী।

‘প্রত্যাবর্তন’ শব্দে আপত্তি

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সুযোগ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নেও খুব বেশি আশাবাদী নন মধুমন্তী। রাতারাতি কাজের পরিস্থিতি বদলে যাবে বলেও মনে করেন না তিনি।

একই সঙ্গে ‘১৫ বছর তাঁকে চেপে রাখা হয়েছিল’— এমন প্রচলিত বক্তব্যের সঙ্গেও পুরোপুরি একমত নন তিনি। বরং তাঁর মতে, তাঁকে নিয়ে ‘প্রত্যাবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করাও ঠিক নয়। কারণ তিনি কখনও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন না।

শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেও, মধুমন্তী মৈত্র নিজের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন— তিনি এই পেশার সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন এবং এখনও রয়েছেন।