০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাকরি-ঝড়, নতুন ফেড ও ‘দুই গতির’ মূল্যস্ফীতি: বিশ্ব অর্থনীতি কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে? ব্যথার চিকিৎসা নাকি ভয়ের রাজনীতি: ওপিওয়েড নিয়ে নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য কোথায়? সুনামগঞ্জে আকস্মিক গ্যাস সংকট: রান্নাঘর থেকে সিএনজি স্টেশন—চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী রুমিন ফারহানা: ‘প্রত্যেক মানুষের হাতেই গণমাধ্যম, শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনতে চাইলে শুনতে পারবেন’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের আহত; ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র ঘিরে হট্টগোল তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, লালমনিরহাটের নিচু এলাকায় পানি ঢুকছে ব্রিটিশ ওপেনে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ এখনো ধীরে ধীরে উপলব্ধি করছেন কুওয়াকি

এয়ার ইন্ডিয়ায় সংকট আরও গভীর, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্টের আগে বাড়ছে চাপ

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত ফ্লাইট দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই ভারতের জাতীয় বিমান সংস্থাটিকে ঘিরে একের পর এক সংকট সামনে আসতে শুরু করেছে। নেতৃত্ব সংকট, বাড়তে থাকা আর্থিক ক্ষতি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব—সব মিলিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

২০২৫ সালের ১২ জুন লন্ডনগামী এআই-১৭১ ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬০ জন। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী মাসে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

নেতৃত্ব সংকটে অনিশ্চয়তা

Air India crisis deepens ahead of final Ahmedabad crash report - AOL

এই পরিস্থিতির মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসনের পদত্যাগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সংস্থাটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২২ সালে টাটা গোষ্ঠী সরকারের কাছ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ বছরের একটি বড় সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।

টাটা গোষ্ঠীর ভেতরেও উদ্বেগ

বর্তমানে টাটা গোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ব্যয় কমানোর নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মীদেরও কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মুম্বাই সদর দপ্তরে উপস্থিতি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সংস্থাটি এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫ দশমিক ১ শতাংশ অংশীদার।

Air India crisis deepens ahead of final Ahmedabad crash report - AOL

নিরাপত্তা ও পরিচালনা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

গত কয়েক মাসে একাধিক প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ঘটনার কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা রেকর্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীদের আস্থা ফেরানো এখন সংস্থাটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার এই মুহূর্তে প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী ও স্পষ্ট নেতৃত্ব। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক চাপেও বাড়ছে সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং কিছু আকাশপথে সীমাবদ্ধতার প্রভাবও এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে সংস্থাটির ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিযোগী সংস্থাগুলোর চাপ।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাস এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর সংস্থাটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

Air India to start Delhi-Dhaka direct flights from September 15

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

এয়ার ইন্ডিয়ায় সংকট আরও গভীর, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্টের আগে বাড়ছে চাপ

১২:৪৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত ফ্লাইট দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই ভারতের জাতীয় বিমান সংস্থাটিকে ঘিরে একের পর এক সংকট সামনে আসতে শুরু করেছে। নেতৃত্ব সংকট, বাড়তে থাকা আর্থিক ক্ষতি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব—সব মিলিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

২০২৫ সালের ১২ জুন লন্ডনগামী এআই-১৭১ ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬০ জন। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী মাসে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

নেতৃত্ব সংকটে অনিশ্চয়তা

Air India crisis deepens ahead of final Ahmedabad crash report - AOL

এই পরিস্থিতির মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাম্পবেল উইলসনের পদত্যাগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সংস্থাটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২২ সালে টাটা গোষ্ঠী সরকারের কাছ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ বছরের একটি বড় সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।

টাটা গোষ্ঠীর ভেতরেও উদ্বেগ

বর্তমানে টাটা গোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ব্যয় কমানোর নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মীদেরও কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মুম্বাই সদর দপ্তরে উপস্থিতি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সংস্থাটি এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫ দশমিক ১ শতাংশ অংশীদার।

Air India crisis deepens ahead of final Ahmedabad crash report - AOL

নিরাপত্তা ও পরিচালনা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

গত কয়েক মাসে একাধিক প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ঘটনার কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা রেকর্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীদের আস্থা ফেরানো এখন সংস্থাটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার এই মুহূর্তে প্রয়োজন ছিল একটি শক্তিশালী ও স্পষ্ট নেতৃত্ব। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক চাপেও বাড়ছে সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং কিছু আকাশপথে সীমাবদ্ধতার প্রভাবও এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে সংস্থাটির ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিযোগী সংস্থাগুলোর চাপ।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাস এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর সংস্থাটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

Air India to start Delhi-Dhaka direct flights from September 15