অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণের বড় পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত থেমে গেল বিতর্কের মুখে। কয়েক মাস আগেও যে প্রকল্পকে ঘিরে ছিল ব্যাপক আলোচনা, সেটিই এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ডেভেলপার জানিয়েছে, ট্রাম্প ব্র্যান্ডের নেতিবাচক ভাবমূর্তি এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
গোল্ড কোস্টে প্রস্তাবিত এই বিলাসবহুল ভবনটির উচ্চতা হওয়ার কথা ছিল ৩৩৫ মিটার। ৯১ তলা বিশিষ্ট এই হোটেল ও আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেটি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে পরিচিতি পেত। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
তিন মাসের মধ্যেই বদলে গেল পরিস্থিতি

মাত্র তিন মাস আগে প্রকল্পটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন দাবি করা হয়, এটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি প্রতীকী স্থাপনা হয়ে উঠবে। কিন্তু খুব দ্রুতই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান অল্টাস প্রপার্টি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ডেভিড ইয়ং বলেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্প ব্র্যান্ডকে ঘিরে বাড়তে থাকা বিতর্ক অস্ট্রেলিয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, ব্র্যান্ডটি ধীরে ধীরে “বিষাক্ত” হয়ে উঠছিল এবং সেই কারণেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ট্রাম্প ব্র্যান্ড বাদ দিয়ে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সঙ্গে নতুনভাবে কাজ করার চিন্তা চলছে।
ওয়েবসাইট থেকেও সরানো হলো তথ্য

প্রকল্পটি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয় যখন ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ডেভেলপার নির্ধারিত আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করতে পারেনি।
তবে অল্টাস প্রপার্টি গ্রুপ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আর্থিক ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং ব্র্যান্ড ইমেজ এবং বাজার পরিস্থিতির কারণেই অংশীদারিত্ব থেকে সরে আসা হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ট্রাম্প ব্র্যান্ড
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন বিতর্কে ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডও নতুন চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো বাজারে রাজনৈতিক বিতর্ককে ঘিরে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে প্রকল্পটি ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নতুন অংশীদার খুঁজে পাওয়া গেলে গোল্ড কোস্টের সেই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প আবারও সামনে আসতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















