কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ও দুপুরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষকের নাম রিয়াজুল ইসলাম (৩৮)। তিনি কেদার ইউনিয়নের চর বিষ্ণুপুর গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার সকালে রিয়াজুল ইসলাম ধান কাটতে পাশের মাঠে যান। পরে বৃষ্টি ও বজ্রসহ আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে মাঠেই বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথে তার মৃত্যু হয়।
গ্রামজুড়ে শোক
রিয়াজুল ইসলামের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, চলতি মৌসুমে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রধ্বনির সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
একই সময়ে কিশোর আহত
একই দিনে নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে বজ্রপাতে আহত হয় বায়েজিদ (১৫) নামে এক কিশোর। সে আশরাফুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, মাঠ থেকে ছাগল আনতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের কবলে পড়ে সে আহত হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘরের ভেতরেও রক্ষা মেলেনি
এদিকে পৃথক আরেক ঘটনায় ইসমেতারা নামে এক গৃহবধূ আহত হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতের আঘাতে তিনি আহত হন।
আহত দুজনকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্পণ কুমার দাস ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কালবৈশাখী ও বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ও আহত দুইজনের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত আরও দুইজন
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। এলাকায় শোক ও উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















