জাকার্তাজুড়ে গৃহস্থালি বর্জ্য আলাদা করার নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই মধ্য জাকার্তার পূর্ব চেম্পাকা পুতিহ এলাকার ‘সামতামা ভিলেজ’ বহু বছর ধরে নিজস্ব উদ্যোগে বর্জ্য পৃথকীকরণের কাজ চালিয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এখন এই এলাকা নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
সম্প্রতি এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, সরু গলির মুখে সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে প্লাস্টিক, কাগজ ও কার্ডবোর্ড আলাদা করে জমা দেওয়ার বর্জ্য ব্যাংকের বাক্স। আশপাশজুড়ে রয়েছে নানা ধরনের ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছপালা। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে আলাদা ডাস্টবিন—একটিতে জৈব বর্জ্য, অন্যটিতে শুকনো পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ।
সম্মিলিত উদ্যোগে বদলে যাওয়া এলাকা
‘সামতামা’ নামটি এসেছে ‘সাম্পাহ তানগুং জাওয়াব বেরসামা’ থেকে, যার অর্থ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সবার যৌথ দায়িত্ব। স্থানীয় কমিউনিটি নেতা মোহামাদ ইয়াকুব জানান, এই নামই এলাকার মূল দর্শনকে তুলে ধরে।
৬০ বছর বয়সী ইয়াকুবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে প্রথমে ‘গ্রিন ভিলেজ’ ধারণা নিয়ে কাজ শুরু হয়। তখন বাসিন্দারা গলিপথে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ সুন্দর করার উদ্যোগ নেন। পরে সেই কার্যক্রম ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আন্দোলনে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, শুরুতে বাসিন্দাদের বোঝানো সহজ ছিল না। অনেকেই মনে করতেন না যে বর্জ্য আলাদা করা জরুরি কোনো বিষয়। তবে সময়ের সঙ্গে একে অপরকে দেখে মানুষ উদ্বুদ্ধ হতে শুরু করে। এখন এটি বাধ্যবাধকতার চেয়ে অভ্যাস ও সচেতনতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি নীতির আগেই স্থানীয় সাফল্য
জাকার্তা প্রশাসন গত ১০ মে থেকে গৃহস্থালি বর্জ্য আলাদা করার নীতি কার্যকর করে। কিন্তু সামতামা ভিলেজের বাসিন্দারা তার বহু আগেই এই চর্চা শুরু করেন। এর ফলে এলাকার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পাঠানোর প্রয়োজন কমে গেছে।
বর্তমানে পূর্ব চেম্পাকা পুতিহ উপঅঞ্চলের ১৮টি পাড়া ইউনিটজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে ২০টি বর্জ্য ব্যাংক। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বাসিন্দারা আলাদা করা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য জমা দেন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
২০১৯ সালে তৎকালীন গভর্নর আনিস বাসওয়েদান রাজধানীর ২২টি পাড়া ইউনিটকে এই ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সামতামা ভিলেজ সেই তালিকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
পরিবেশ সচেতনতায় নতুন দৃষ্টান্ত
স্থানীয়দের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি এই উদ্যোগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারাতেও পরিবর্তন এনেছে। এখন শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই বর্জ্য আলাদা করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। অনেকেই নিজেদের বাড়ির সামনেও ছোট বাগান তৈরি করেছেন।
সামতামা ভিলেজের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ থাকলে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জাকার্তার সামতামা ভিলেজ দেখিয়ে দিচ্ছে, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও হতে পারে সফল ও টেকসই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















