০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার সিলেটে রবিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, জরুরি মেরামতে ভোগান্তির শঙ্কা কুয়াকাটার সৈকতে বিরল অলিভ রিডলি কচ্ছপ উদ্ধার, বাড়ছে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবি ইসরায়েলের নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ লেবানন কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত আরও দুইজন পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”

জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার পর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ধাক্কা মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এনার্জি ট্রানজিশনস কমিশন (ইটিসি) নামে জ্বালানি খাতের বৈশ্বিক নেতাদের একটি জোট প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থা বৈশ্বিক সংকটকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা সেই ধাক্কা শোষণ করার সক্ষমতা রাখে। ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য নির্গমন অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি বলছে, তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি সরবরাহ নির্ভর করে সীমিত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর। ফলে এসব পথে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

অন্যদিকে সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে শুরুতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও পরবর্তী সময়ে এগুলো তুলনামূলক স্থিতিশীল ও কম ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি ব্যবস্থা তৈরি করে।

পাকিস্তানের সৌরশক্তি উদাহরণ

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ দেশটিকে হরমুজ সংকটের বড় ধাক্কা থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সাশ্রয়ে সহায়তা করেছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদাও কমিয়েছে।

ইটিসি বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শুধু জলবায়ু ঝুঁকি নয়, এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দুর্বলতাও তৈরি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিকে বছরে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে, যদিও এতে অতিরিক্ত কোনো জ্বালানি পাওয়া যাবে না।

ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নবায়নযোগ্য শক্তিতে দ্রুত রূপান্তরের আহ্বান

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতে দ্রুত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন, রান্না ও গরম করার ব্যবস্থায় বিদ্যুতায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সবুজ জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব সার উৎপাদন এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইটিসির সহ-সভাপতি অ্যাডেয়ার টার্নার বলেন, বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কেবল পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তৃত, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যধাক্কার প্রতি কম সংবেদনশীল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯০ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে। যা হরমুজ প্রণালি সংকটের আগের তেল পরিবহন প্রবাহের প্রায় অর্ধেকের সমান।

ভর্তুকি ও বিনিয়োগ নিয়ে সতর্কতা

জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও ইটিসি বলছে, সরকারগুলোর উচিত হবে না নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় আকারের তেল-গ্যাস সম্প্রসারণ বা দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি প্রকল্পে অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিকে উৎসাহিত করে এমন ব্যাপক ভর্তুকি থেকেও সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে বিশেষ করে ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির খরচ কমতে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আসবে সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকে।

হরমুজ সংকটের পর বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে ভবিষ্যতের কৌশলগত সমাধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজ সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

হরমুজ সংকটের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ঝুঁকি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা

জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

০৮:৩১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার পর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ধাক্কা মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এনার্জি ট্রানজিশনস কমিশন (ইটিসি) নামে জ্বালানি খাতের বৈশ্বিক নেতাদের একটি জোট প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থা বৈশ্বিক সংকটকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা সেই ধাক্কা শোষণ করার সক্ষমতা রাখে। ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য নির্গমন অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি বলছে, তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি সরবরাহ নির্ভর করে সীমিত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর। ফলে এসব পথে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

অন্যদিকে সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে শুরুতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও পরবর্তী সময়ে এগুলো তুলনামূলক স্থিতিশীল ও কম ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি ব্যবস্থা তৈরি করে।

পাকিস্তানের সৌরশক্তি উদাহরণ

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ দেশটিকে হরমুজ সংকটের বড় ধাক্কা থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সাশ্রয়ে সহায়তা করেছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদাও কমিয়েছে।

ইটিসি বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শুধু জলবায়ু ঝুঁকি নয়, এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দুর্বলতাও তৈরি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিকে বছরে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হতে পারে, যদিও এতে অতিরিক্ত কোনো জ্বালানি পাওয়া যাবে না।

ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নবায়নযোগ্য শক্তিতে দ্রুত রূপান্তরের আহ্বান

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতে দ্রুত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন, রান্না ও গরম করার ব্যবস্থায় বিদ্যুতায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সবুজ জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব সার উৎপাদন এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইটিসির সহ-সভাপতি অ্যাডেয়ার টার্নার বলেন, বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কেবল পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তৃত, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যধাক্কার প্রতি কম সংবেদনশীল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯০ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে। যা হরমুজ প্রণালি সংকটের আগের তেল পরিবহন প্রবাহের প্রায় অর্ধেকের সমান।

ভর্তুকি ও বিনিয়োগ নিয়ে সতর্কতা

জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও ইটিসি বলছে, সরকারগুলোর উচিত হবে না নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় আকারের তেল-গ্যাস সম্প্রসারণ বা দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি প্রকল্পে অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিকে উৎসাহিত করে এমন ব্যাপক ভর্তুকি থেকেও সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে বিশেষ করে ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির খরচ কমতে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আসবে সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকে।

হরমুজ সংকটের পর বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে ভবিষ্যতের কৌশলগত সমাধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

হরমুজ সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

হরমুজ সংকটের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ঝুঁকি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান উঠেছে।