০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার সিলেটে রবিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, জরুরি মেরামতে ভোগান্তির শঙ্কা কুয়াকাটার সৈকতে বিরল অলিভ রিডলি কচ্ছপ উদ্ধার, বাড়ছে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবি ইসরায়েলের নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ লেবানন কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত আরও দুইজন পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”

পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”

পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে এবং ভারতের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের ঠিক করতে হবে তারা “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

শনিবার নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক ইন্টারঅ্যাকটিভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

জবাবে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া চালিয়ে যায় এবং ভারতের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভবিষ্যতে টিকে থাকতে চায় কিনা। তার ভাষায়, পাকিস্তানকে ঠিক করতে হবে তারা “ভূগোলের অংশ হবে, নাকি ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।”

অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তির পর নতুন উত্তেজনা

ভারত সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করেছে। গত বছরের ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালায়।

এই অভিযান শুরু হয়েছিল ২২ এপ্রিল পাহেলগামে হওয়া প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার জেরে। ভারত দাবি করেছিল, ওই হামলার জবাব হিসেবেই তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এরপর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। ভারত তাদের সব ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ হিসেবে পরিচালনা করে।

প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে সন্ধ্যায়, যখন দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক অপারেশনস প্রধান ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

Army chief Pakistan warning over terrorism - India Today

সংলাপ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান

এদিকে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সংলাপ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ভারতের ভেতরে যারা দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চালুর পক্ষে কথা বলছেন, সেটিকে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

এর আগে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে, আরএসএস নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলের একটি বক্তব্যকে সমর্থন করেন। হোসাবলে বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার দরজা সবসময় খোলা রাখা উচিত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা এখন দেখার অপেক্ষায় আছে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের বক্তব্যের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করে, ভারত বাস্তববাদী অবস্থানে ফিরবে এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরি হবে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ স্থগিত রয়েছে। সীমান্ত উত্তেজনা, সন্ত্রাসবাদ ইস্যু এবং কাশ্মীর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে সরাসরি কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানে স্পষ্ট বৈপরীত্যও তুলে ধরেছে।

পাকিস্তানকে কড়া বার্তা

ভারতীয় সেনাপ্রধানের কড়া সতর্কবার্তার মধ্যেই আবারও সামনে এসেছে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু। অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তির প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা

পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”

০৮:০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে এবং ভারতের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের ঠিক করতে হবে তারা “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

শনিবার নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক ইন্টারঅ্যাকটিভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

জবাবে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া চালিয়ে যায় এবং ভারতের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভবিষ্যতে টিকে থাকতে চায় কিনা। তার ভাষায়, পাকিস্তানকে ঠিক করতে হবে তারা “ভূগোলের অংশ হবে, নাকি ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।”

অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তির পর নতুন উত্তেজনা

ভারত সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করেছে। গত বছরের ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালায়।

এই অভিযান শুরু হয়েছিল ২২ এপ্রিল পাহেলগামে হওয়া প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার জেরে। ভারত দাবি করেছিল, ওই হামলার জবাব হিসেবেই তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এরপর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। ভারত তাদের সব ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ হিসেবে পরিচালনা করে।

প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে সন্ধ্যায়, যখন দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক অপারেশনস প্রধান ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

Army chief Pakistan warning over terrorism - India Today

সংলাপ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান

এদিকে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সংলাপ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ভারতের ভেতরে যারা দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চালুর পক্ষে কথা বলছেন, সেটিকে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

এর আগে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে, আরএসএস নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলের একটি বক্তব্যকে সমর্থন করেন। হোসাবলে বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার দরজা সবসময় খোলা রাখা উচিত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা এখন দেখার অপেক্ষায় আছে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের বক্তব্যের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করে, ভারত বাস্তববাদী অবস্থানে ফিরবে এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরি হবে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ স্থগিত রয়েছে। সীমান্ত উত্তেজনা, সন্ত্রাসবাদ ইস্যু এবং কাশ্মীর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে সরাসরি কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানে স্পষ্ট বৈপরীত্যও তুলে ধরেছে।

পাকিস্তানকে কড়া বার্তা

ভারতীয় সেনাপ্রধানের কড়া সতর্কবার্তার মধ্যেই আবারও সামনে এসেছে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু। অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তির প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।