০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
লে সেরাফিমের নতুন অ্যালবাম ঘিরে উত্তেজনা, টিজারে ফুটে উঠল দলের দারুণ রসায়ন বিলবোর্ডে ঝড় তুলল কর্টিস, নতুন অ্যালবাম উঠে এল তৃতীয় স্থানে ডে সিক্সের বিশ্বভ্রমণ শেষ হচ্ছে সিউলে তিনটি জমকালো কনসার্টে হাইব-গেফেনের নতুন চমক ‘সেন্ট সাটিন’, ক্যাটসআইয়ের পর আবারও বৈশ্বিক গার্ল গ্রুপে বাজি ট্রাম্প-লি ফোনালাপ ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে যুদ্ধনীতি নয়, আইনের ভাষাই হতে পারে শেষ ভরসা চীনকে ঘিরে বাস্তববাদী কূটনীতির প্রয়োজন অপচয়ের অদৃশ্য হিসাব: খাদ্য সংকট নয়, সংকট ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ক্ষুব্ধ ইরান, যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন অচলাবস্থা স্যামসাংয়ের ধর্মঘট পরিকল্পনায় আদালতের আংশিক নিষেধাজ্ঞা, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়ছে শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা উত্তেজনা

কঙ্গো-উগান্ডায় নতুন ইবোলা আতঙ্ক, জরুরি সতর্কতা জারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আফ্রিকার দুই দেশ কঙ্গো ও উগান্ডায় নতুন করে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও নামের এক ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এই ধরনে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে শতাধিক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং কয়েকজনের শরীরে পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের কারণে উগান্ডাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

WHO declares Ebola outbreak in Congo, Uganda an emergency of international  concern | Reuters

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও ইতোমধ্যে দুইজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তাদের একজন মারা গেছেন। আক্রান্তদের দুজনই কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কীভাবে ছড়ায় ইবোলা

ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ, রক্ত বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সংস্পর্শে এলে এটি ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি বাতাসে ছড়ায় না, তবে অল্প সংস্পর্শেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। অতীতের বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। বর্তমান বান্ডিবুগিও ধরনের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চাপ

ইতুরি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল। নিরাপত্তা সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত চিকিৎসা ও রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দল সেখানে জরুরি প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালে জরুরি স্বাস্থ্য সেবার জন্য ২.৫ বিলিয়ন  ডলার চেয়েছে | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি। তাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

আগেও একাধিকবার ছড়িয়েছে ইবোলা

কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এর আগে ২০১২ সালে একই ধরনের ভাইরাসে কঙ্গোতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। উগান্ডাতেও ২০০৭ ও ২০০৮ সালে বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ছড়িয়েছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো আক্রান্তদের আলাদা করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি চালানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লে সেরাফিমের নতুন অ্যালবাম ঘিরে উত্তেজনা, টিজারে ফুটে উঠল দলের দারুণ রসায়ন

কঙ্গো-উগান্ডায় নতুন ইবোলা আতঙ্ক, জরুরি সতর্কতা জারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

০২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আফ্রিকার দুই দেশ কঙ্গো ও উগান্ডায় নতুন করে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও নামের এক ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এই ধরনে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে শতাধিক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং কয়েকজনের শরীরে পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের কারণে উগান্ডাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

WHO declares Ebola outbreak in Congo, Uganda an emergency of international  concern | Reuters

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও ইতোমধ্যে দুইজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তাদের একজন মারা গেছেন। আক্রান্তদের দুজনই কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কীভাবে ছড়ায় ইবোলা

ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ, রক্ত বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সংস্পর্শে এলে এটি ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি বাতাসে ছড়ায় না, তবে অল্প সংস্পর্শেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। অতীতের বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। বর্তমান বান্ডিবুগিও ধরনের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চাপ

ইতুরি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল। নিরাপত্তা সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত চিকিৎসা ও রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দল সেখানে জরুরি প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালে জরুরি স্বাস্থ্য সেবার জন্য ২.৫ বিলিয়ন  ডলার চেয়েছে | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি। তাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

আগেও একাধিকবার ছড়িয়েছে ইবোলা

কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এর আগে ২০১২ সালে একই ধরনের ভাইরাসে কঙ্গোতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। উগান্ডাতেও ২০০৭ ও ২০০৮ সালে বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ছড়িয়েছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো আক্রান্তদের আলাদা করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি চালানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।