রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় এক রাতেই শত শত ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, গত এক বছরের মধ্যে এটি মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা। হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রবিবার ভোররাতের এই হামলার পর মস্কো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধ্বংসস্তূপের ঘটনা ঘটে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতভর শত শত ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
মস্কোর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি
মস্কোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খিমকি এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকা পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর উত্তর-পূর্বে মিতিশচি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির ওপর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হন। আহতদের মধ্যে তেল শোধনাগারে কর্মরত শ্রমিকও রয়েছেন।
রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চলীয় ইস্ত্রা এলাকায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও চারজন আহত হন।
ভারতীয় নাগরিক নিহত
মস্কো অঞ্চলে হামলার সময় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন ভারতীয় নাগরিক। এ ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তেল স্থাপনা ও সামরিক শিল্প লক্ষ্যবস্তু
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছে, তারা মস্কো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলায় দুটি তেল পাম্পিং কেন্দ্র, একটি তেল শোধনাগার এবং সামরিক শিল্পে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহকারী একটি কারখানায় আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা শতাধিক ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে বলে দাবি করেছেন শহরের মেয়র।
বিমানবন্দর এলাকায়ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ
রাশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভোর এলাকায়ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে কয়েক দিন আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এরপরই মস্কোতে এই বড় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল।
যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সীমান্তের বাইরে গভীর এলাকায় হামলা বাড়ায় দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা সামাজিক মাধ্যমে মস্কোর অভিজাত আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















