০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫০ ডলি পার্টন: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিই সত্যি হলো খাবারের রায় কার ওপর ভরসা করবেন—খাদ্যপ্রভাবক নাকি পেশাদার সমালোচক? ডলি পার্টনের মৃত্যু, ৮০ বছরেই থামল কিংবদন্তি সংগীতজীবন এ৬৬ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত: সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্তে ১২ জন গ্রেপ্তার ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব, অন্টারিও হ্রদের নাম হতে পারে ‘আমেরিকা হ্রদ’ ডেভনে বন্ধ টাংস্টেন খনি ফের চালু করতে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ ব্রিটিশ সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গণিতের ভবিষ্যৎ শেষ করে দেবে? এখনই নয় ২৩ বছর পর ফিরছে ‘হাউ টু লুজ আ গাই ইন ১০ ডেজ’, প্রযোজনায় কেট হাডসন মাওয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য নির্মাণের দায়ে চীনা শিল্পীর তিন বছরের কারাদণ্ড

হরমুজ প্রণালির সংকট দীর্ঘ হলে বদলে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এমনই আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে ধারণা ছিল এই সংকট হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধান বা সামরিক উত্তেজনা কমে যাওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতাকে দেখছে বড় অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ পরিবহন হয়। ফলে এই পথের যেকোনো অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

What disrupting the strait of Hormuz could mean for global cost-of-living  pressures | US-Israel war on Iran | The Guardian

বর্তমানে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বীমা খরচ বেড়েছে, অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প পথ খুঁজছে এবং সমুদ্রপথে মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন খরচ স্থায়ীভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বাড়তে পারে তেলের দাম

সংকট দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ১১০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, বিমান ভাড়া, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। কারণ জাহাজ চলাচল, বীমা কাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আবার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে।

Strait of Hormuz tanker attacks could lead to a 'guaranteed global  recession' | Fortune

সবচেয়ে ঝুঁকিতে এশিয়া

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।

ভারতকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দেশটির প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। একইভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

চীনের ক্ষেত্রেও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও রপ্তানি বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।

বদলে যেতে পারে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা

দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কায় এখন অনেক দেশ ও কোম্পানি বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। কেউ নতুন পাইপলাইন ব্যবহার বাড়াচ্ছে, আবার কেউ আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের কিছু অংশ হয়তো স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের মানচিত্রই বদলে যেতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫০

হরমুজ প্রণালির সংকট দীর্ঘ হলে বদলে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি

০২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এমনই আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে ধারণা ছিল এই সংকট হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধান বা সামরিক উত্তেজনা কমে যাওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতাকে দেখছে বড় অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় ধাক্কা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ পরিবহন হয়। ফলে এই পথের যেকোনো অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

What disrupting the strait of Hormuz could mean for global cost-of-living  pressures | US-Israel war on Iran | The Guardian

বর্তমানে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বীমা খরচ বেড়েছে, অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প পথ খুঁজছে এবং সমুদ্রপথে মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন খরচ স্থায়ীভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বাড়তে পারে তেলের দাম

সংকট দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ১১০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, বিমান ভাড়া, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। কারণ জাহাজ চলাচল, বীমা কাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আবার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে।

Strait of Hormuz tanker attacks could lead to a 'guaranteed global  recession' | Fortune

সবচেয়ে ঝুঁকিতে এশিয়া

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।

ভারতকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দেশটির প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। একইভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

চীনের ক্ষেত্রেও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও রপ্তানি বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।

বদলে যেতে পারে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা

দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কায় এখন অনেক দেশ ও কোম্পানি বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। কেউ নতুন পাইপলাইন ব্যবহার বাড়াচ্ছে, আবার কেউ আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের কিছু অংশ হয়তো স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের মানচিত্রই বদলে যেতে পারে।