গাজায় হামাসের অন্যতম শীর্ষ সামরিক নেতা ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদের মৃত্যু ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় শুক্রবার রাতে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের কাজে সক্রিয় ছিলেন আল-হাদ্দাদ। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে চালানো হামলার পরিকল্পনায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই হামলায় বহু মানুষ নিহত ও জিম্মি হওয়ার পর থেকেই তাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছিল ইসরায়েল।
রাতের হামলায় কেঁপে ওঠে গাজা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতের দিকে গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে একটি আবাসিক ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় আল-হাদ্দাদের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

‘আল-কাসসামের ভূত’ নামে পরিচিত ছিলেন
ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ দীর্ঘদিন ধরেই হামাসের সামরিক শাখার গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। খুব কম প্রকাশ্যে আসতেন বলে তাকে “আল-কাসসামের ভূত” নামে ডাকা হতো। অতীতে একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল ইসরায়েল।
হামাসের শুরুর সময় থেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজার সামরিক প্রধানের দায়িত্বে পৌঁছান। ২০২৫ সালে আগের দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর তিনি এই দায়িত্ব নেন।
হামাসের পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা
ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে হামাসের সামরিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়লেও আল-হাদ্দাদ নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। হাজারো নতুন সদস্য যুক্ত হলেও তাদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও গাজার বড় একটি অংশে হামাসের প্রভাব বজায় রয়েছে। অস্ত্র সমর্পণের চাপ থাকলেও সংগঠনটি এখনো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক হামলার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েল বলছে, সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে আগাম অভিযান চালানো তাদের নীতির অংশ। অন্যদিকে হামাসপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিকভাবে হারানো সংগঠনটির জন্য বড় ধাক্কা হলেও গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরানো এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















