শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে এবং অতিরিক্ত পর্দা ব্যবহারের ক্ষতি কমাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন থেকেই নগর প্রশাসনের অধীন স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের অধীন ৪৩৭টি স্কুলে সোমবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়। এর আওতায় শ্রেণিকক্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন শিক্ষকদের কাছে জমা রাখতে হবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও উন্নত হবে।
শিক্ষার্থীদের আচরণে পরিবর্তনের উদ্বেগ

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে শিশুদের মনোযোগের সময় কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চোখের সমস্যাও বাড়ছে। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ ও শেখার পরিবেশ উন্নত করতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল
কয়েকটি স্কুলে এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেখানে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি এবং শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণও বেড়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণাতেও স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের ইতিবাচক প্রভাব উঠে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বড় পরিসরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা
নতুন নিয়ম নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হলেও শিশুদের জন্য নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জরুরি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, জরুরি যোগাযোগের বিষয়টি মাথায় রেখে স্কুলগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















