১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে বিশাল ‘পাখা-আকৃতির’ ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সন্ধান, বদলে যেতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের ধারণা ই-রিকশা দূর থেকে বন্ধের অভিযোগ: গুগল-অ্যাপলকে আরও ৭ ব্যাটারি অ্যাপ সরাতে ভারতের নির্দেশ ঢাকার হামলায় নিহত জাপানিদের স্মরণ করলেন বাংলাদেশের হাসিনা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা সামলাতে এশিয়ার ভরসা আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা? সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পাঁচ দিনের শোকানুষ্ঠান শুরু: খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে বিশ্বনেতাদের সমাগম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট সেবা চালু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোনালদোর গোল, স্পেনের দাপট, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে মদরিচ: বিশ্বকাপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই

এআই দুনিয়ার ভেতরের মানুষদের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন দ্বারকেশ প্যাটেল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা। প্রযুক্তি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, গবেষক—সবাই যেন নতুন এক দৌড়ে নেমেছে। এই সময়েই প্রযুক্তি জগতের ভেতরের কথাগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন তরুণ পডকাস্টার দ্বারকেশ প্যাটেল। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন এআই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ।

সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক তার “দ্বারকেশ পডকাস্ট” এখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিটি পর্বে গড়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ শুনছেন তার আলোচনা। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহী ও গবেষকেরা তার অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলছেন। কারণ, দ্বারকেশ শুধু সাধারণ প্রশ্ন করেন না, বরং এমন সব প্রযুক্তিগত বিষয় তুলে আনেন যা সাধারণ সাক্ষাৎকারে খুব কমই দেখা যায়।

প্রযুক্তি আলোচনায় ভিন্নতা

Dwarkesh Patel sits across a table from Jensen Huang, who is speaking. They both have microphones propped in front of them.

দ্বারকেশের সাক্ষাৎকারের বড় বৈশিষ্ট্য হলো গভীর প্রস্তুতি। একটি পর্বের জন্য তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ সময় ব্যয় করেন। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চিপ নির্মাণ কিংবা পদার্থবিজ্ঞান—বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা করে পড়াশোনা করেন। এমনকি কঠিন বিষয় বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও সহায়তা নেন।

তার আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে জটিল প্রযুক্তিগত শব্দ ও ধারণা। কিন্তু প্রযুক্তি মহলের মানুষদের কাছে এটিই তাকে আলাদা করেছে। কারণ, তিনি প্রযুক্তি দুনিয়ার ভেতরের বাস্তব আলোচনা তুলে ধরতে চান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে গভীর বিতর্ক হয়।

এআই নিয়ে আশাবাদী অবস্থান

দ্বারকেশ বিশ্বাস করেন, এআই ভবিষ্যতে মানবজীবনে বিশাল পরিবর্তন আনবে। যদিও তিনি মনে করেন, মানবসদৃশ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা তৈরি হতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। তার মতে, প্রযুক্তিগত নানা বাধা এখনও কাটিয়ে উঠতে হবে।

তার পডকাস্টে এআইয়ের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। ফলে যারা প্রযুক্তির ঝুঁকি বা নেতিবাচক দিক নিয়ে বেশি চিন্তা করেন, তাদের কাছে অনুষ্ঠানটি কম আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভেতরের চিন্তাভাবনা জানতে আগ্রহীদের জন্য এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম।

ছাত্রাবস্থা থেকে উত্থান

A portrait of Dwarkesh Patel, seated with one arm resting on a table.

দ্বারকেশ প্যাটেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে তিনি প্রথম পডকাস্ট শুরু করেন। শুরুতে অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করলেও পরে এআই হয়ে ওঠে তার মূল বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান। ঠিক তখনই চ্যাটজিপিটির উত্থানে এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দ্রুত প্রযুক্তি মহলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তার ধারাবাহিক গবেষণা, প্রস্তুতি ও গভীর প্রশ্নের কারণে ধীরে ধীরে প্রযুক্তি বিশ্বের বড় বড় নাম তার অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেন। এআই গবেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও বিনিয়োগকারীরা এখন তার পডকাস্টকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

নিজের পথেই এগোতে চান

বর্তমানে তার পডকাস্ট থেকে বড় অঙ্কের আয় হচ্ছে। বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরশিপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি একটি সফল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তারপরও তিনি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে যেতে আগ্রহী নন।

দ্বারকেশ মনে করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করার মধ্যেই তার সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। তিনি বলেন, তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হলো নতুন সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং গভীর আলোচনা তৈরি করা।

প্রযুক্তি জগতের দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে দ্বারকেশ প্যাটেল এখন শুধু একজন পডকাস্টার নন, বরং এআই যুগের ভেতরের কণ্ঠস্বর হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন

এআই দুনিয়ার ভেতরের মানুষদের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন দ্বারকেশ প্যাটেল

০১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা। প্রযুক্তি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, গবেষক—সবাই যেন নতুন এক দৌড়ে নেমেছে। এই সময়েই প্রযুক্তি জগতের ভেতরের কথাগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন তরুণ পডকাস্টার দ্বারকেশ প্যাটেল। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন এআই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ।

সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক তার “দ্বারকেশ পডকাস্ট” এখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিটি পর্বে গড়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ শুনছেন তার আলোচনা। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহী ও গবেষকেরা তার অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলছেন। কারণ, দ্বারকেশ শুধু সাধারণ প্রশ্ন করেন না, বরং এমন সব প্রযুক্তিগত বিষয় তুলে আনেন যা সাধারণ সাক্ষাৎকারে খুব কমই দেখা যায়।

প্রযুক্তি আলোচনায় ভিন্নতা

Dwarkesh Patel sits across a table from Jensen Huang, who is speaking. They both have microphones propped in front of them.

দ্বারকেশের সাক্ষাৎকারের বড় বৈশিষ্ট্য হলো গভীর প্রস্তুতি। একটি পর্বের জন্য তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ সময় ব্যয় করেন। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চিপ নির্মাণ কিংবা পদার্থবিজ্ঞান—বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা করে পড়াশোনা করেন। এমনকি কঠিন বিষয় বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও সহায়তা নেন।

তার আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে জটিল প্রযুক্তিগত শব্দ ও ধারণা। কিন্তু প্রযুক্তি মহলের মানুষদের কাছে এটিই তাকে আলাদা করেছে। কারণ, তিনি প্রযুক্তি দুনিয়ার ভেতরের বাস্তব আলোচনা তুলে ধরতে চান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে গভীর বিতর্ক হয়।

এআই নিয়ে আশাবাদী অবস্থান

দ্বারকেশ বিশ্বাস করেন, এআই ভবিষ্যতে মানবজীবনে বিশাল পরিবর্তন আনবে। যদিও তিনি মনে করেন, মানবসদৃশ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা তৈরি হতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। তার মতে, প্রযুক্তিগত নানা বাধা এখনও কাটিয়ে উঠতে হবে।

তার পডকাস্টে এআইয়ের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। ফলে যারা প্রযুক্তির ঝুঁকি বা নেতিবাচক দিক নিয়ে বেশি চিন্তা করেন, তাদের কাছে অনুষ্ঠানটি কম আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভেতরের চিন্তাভাবনা জানতে আগ্রহীদের জন্য এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম।

ছাত্রাবস্থা থেকে উত্থান

A portrait of Dwarkesh Patel, seated with one arm resting on a table.

দ্বারকেশ প্যাটেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে তিনি প্রথম পডকাস্ট শুরু করেন। শুরুতে অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করলেও পরে এআই হয়ে ওঠে তার মূল বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান। ঠিক তখনই চ্যাটজিপিটির উত্থানে এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দ্রুত প্রযুক্তি মহলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তার ধারাবাহিক গবেষণা, প্রস্তুতি ও গভীর প্রশ্নের কারণে ধীরে ধীরে প্রযুক্তি বিশ্বের বড় বড় নাম তার অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেন। এআই গবেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও বিনিয়োগকারীরা এখন তার পডকাস্টকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

নিজের পথেই এগোতে চান

বর্তমানে তার পডকাস্ট থেকে বড় অঙ্কের আয় হচ্ছে। বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরশিপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি একটি সফল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তারপরও তিনি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে যেতে আগ্রহী নন।

দ্বারকেশ মনে করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করার মধ্যেই তার সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। তিনি বলেন, তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হলো নতুন সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং গভীর আলোচনা তৈরি করা।

প্রযুক্তি জগতের দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে দ্বারকেশ প্যাটেল এখন শুধু একজন পডকাস্টার নন, বরং এআই যুগের ভেতরের কণ্ঠস্বর হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছেন।