০৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা

মালয়েশিয়ার জোট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা, আগাম নির্বাচনের ইঙ্গিত আনোয়ারের

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবার সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জোটসঙ্গী বারিসান ন্যাশনালের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হলে দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচন হতে পারে। এই মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি জোহর বারুতে পাকাতান হারাপান কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার বলেন, পরিস্থিতি যদি এমনই চলতে থাকে, তাহলে জনগণের কাছেই নতুন সিদ্ধান্তের জন্য যাওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পাকাতান হারাপান ও বারিসান ন্যাশনালের মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

জোটে বাড়ছে অবিশ্বাস

Editorial | Anwar is the right leader to put Malaysia back on right track |  South China Morning Post

শুধু আনোয়ারই নন, পাকাতান হারাপানের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে বারিসান ন্যাশনাল ও ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির মহাসচিব অ্যান্থনি লোকে বলেন, বর্তমান ঐক্য সরকারের কারণেই জোহরে দ্রুত পরিবহন, রেলসেবা ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও বারিসান ন্যাশনাল এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে পার্টি আমানাহ নেতাও জোটকে ‘সমস্যাগ্রস্ত দাম্পত্য সম্পর্কের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হলেও ভেঙে ফেলা খুব সহজ।

নেগেরি সেম্বিলান থেকে শুরু সংকট

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শুরু নেগেরি সেম্বিলানে। সেখানে ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের ১৪ জন আইনপ্রণেতা পাকাতান হারাপানের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এরপর জোহরের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন, তাঁর দল আগামী নির্বাচনে সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই ঘোষণার পাল্টা জবাবে আনোয়ারও বলেন, প্রয়োজনে পাকাতান হারাপানও সব আসনে লড়বে। এতে দুই জোটের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে।

Malaysia to Hold General Elections to Solve Political Turmoil

আগাম ভোট নিয়ে জল্পনা

মালয়েশিয়ায় আগামী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে তার আগেই ভোট হতে পারে। বিশেষ করে জোহরে ২০২৬ সালের শেষ দিকেই নির্বাচন হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

বারিসান ন্যাশনাল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জোহরে তারা আগেও এককভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল এবং ফেডারেল পর্যায়ের ক্ষমতা ভাগাভাগির মডেল রাজ্যে কখনও কার্যকর হয়নি।

বিশ্লেষকদের সতর্ক বার্তা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই জোটই এখন আগামী নির্বাচনের আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন এতটাই বেড়েছে যে ভবিষ্যতে সমঝোতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবুও জাতীয় পর্যায়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে উভয় পক্ষকেই কিছুটা সংযম দেখাতে হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

মালয়েশিয়ার জোট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা, আগাম নির্বাচনের ইঙ্গিত আনোয়ারের

০১:০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবার সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জোটসঙ্গী বারিসান ন্যাশনালের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হলে দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচন হতে পারে। এই মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি জোহর বারুতে পাকাতান হারাপান কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার বলেন, পরিস্থিতি যদি এমনই চলতে থাকে, তাহলে জনগণের কাছেই নতুন সিদ্ধান্তের জন্য যাওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পাকাতান হারাপান ও বারিসান ন্যাশনালের মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

জোটে বাড়ছে অবিশ্বাস

Editorial | Anwar is the right leader to put Malaysia back on right track |  South China Morning Post

শুধু আনোয়ারই নন, পাকাতান হারাপানের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে বারিসান ন্যাশনাল ও ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির মহাসচিব অ্যান্থনি লোকে বলেন, বর্তমান ঐক্য সরকারের কারণেই জোহরে দ্রুত পরিবহন, রেলসেবা ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও বারিসান ন্যাশনাল এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে পার্টি আমানাহ নেতাও জোটকে ‘সমস্যাগ্রস্ত দাম্পত্য সম্পর্কের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হলেও ভেঙে ফেলা খুব সহজ।

নেগেরি সেম্বিলান থেকে শুরু সংকট

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শুরু নেগেরি সেম্বিলানে। সেখানে ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের ১৪ জন আইনপ্রণেতা পাকাতান হারাপানের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এরপর জোহরের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন, তাঁর দল আগামী নির্বাচনে সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই ঘোষণার পাল্টা জবাবে আনোয়ারও বলেন, প্রয়োজনে পাকাতান হারাপানও সব আসনে লড়বে। এতে দুই জোটের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে।

Malaysia to Hold General Elections to Solve Political Turmoil

আগাম ভোট নিয়ে জল্পনা

মালয়েশিয়ায় আগামী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে তার আগেই ভোট হতে পারে। বিশেষ করে জোহরে ২০২৬ সালের শেষ দিকেই নির্বাচন হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

বারিসান ন্যাশনাল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জোহরে তারা আগেও এককভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল এবং ফেডারেল পর্যায়ের ক্ষমতা ভাগাভাগির মডেল রাজ্যে কখনও কার্যকর হয়নি।

বিশ্লেষকদের সতর্ক বার্তা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই জোটই এখন আগামী নির্বাচনের আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন এতটাই বেড়েছে যে ভবিষ্যতে সমঝোতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবুও জাতীয় পর্যায়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে উভয় পক্ষকেই কিছুটা সংযম দেখাতে হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।