কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এবার নতুন বিশ্বকাপ যাত্রার আগে অদ্ভুত এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা কাগজে-কলমে তাদের হাতে থাকলেও সেটি নিয়ে এখনো বিতর্ক থামেনি। সেনেগালের করা আপিলের কারণে পুরো বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন পরিচয় নিয়েও স্বস্তিতে নেই আটলাস লায়ন্সরা।
ঘরের মাঠে হওয়া ২০২৫ আফ্রিকা কাপকে মরক্কোর জন্য বড় উদযাপনের মঞ্চ হিসেবে দেখা হয়েছিল। টুর্নামেন্টের আগে তাদের স্থানীয় ফুটবলাররা আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ফিফা আরব কাপ জিতেছিল। দীর্ঘ জয়যাত্রা আর আফ্রিকার শীর্ষ র্যাঙ্কধারী দল হিসেবে দ্বিতীয় আফ্রিকা কাপ জেতা অনেকটাই নিশ্চিত ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
বিশ্বকাপের আগে কোচ পরিবর্তনের ধাক্কা

আফ্রিকা কাপের ফাইনালে ব্যর্থতার পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে কোচিং বিভাগে। সমালোচনার মুখে দায়িত্ব ছাড়তে হয় কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুইকে। অথচ এই কোচের অধীনেই মরক্কো কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল।
২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতে রেকর্ডও গড়েছিল দলটি। তারপরও সমর্থকদের একাংশের অসন্তোষ কমেনি। দীর্ঘ জল্পনার পর মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন রেগরাগুই।
বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দলের এখন নতুন মুখ, নতুন শক্তি এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
নতুন কোচের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
রেগরাগুইয়ের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। মার্চে ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। তিনি সেই দলে জায়গা দেন কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকে, যারা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তবে হাতে সময় খুব কম। কারণ ১৩ জুন বিশ্বকাপে মরক্কোর প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নতুন কোচকে অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে গুছিয়ে তুলতে হবে।
অবশ্য মরক্কোর সমর্থকদের আশা জাগানোর মতো উদাহরণও আছে। ২০২২ সালে বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রেগরাগুই। তারপরও দল ইতিহাস গড়েছিল। তাই এবারও দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে মরক্কো।
প্রবাসী ফুটবলারদের ভরসা
মরক্কো এখনো শক্তিশালী স্কোয়াড গঠনে প্রবাসী ফুটবলারদের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। সম্প্রতি ফুলহ্যামের ডিফেন্ডার ইসা দিয়পকে দলে যুক্ত করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তার বাবা সেনেগালের আর মা মরক্কোর নাগরিক।
এছাড়া ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে টানার চেষ্টা করেছিল মরক্কো। যদিও মার্চে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফরাসি লিগে অভিষেক হওয়া এই তরুণকে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো নজরে রেখেছে।
আফ্রিকা কাপের হতাশা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি মরক্কো। দলের অন্যতম ভরসা ব্রাহিম দিয়াজ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করেন। সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে দলটিকে।
তবুও বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও চমক দেখানোর বিশ্বাস ছাড়ছে না মরক্কো। বিতর্ক, কোচ পরিবর্তন আর চাপের মধ্যেও আফ্রিকার এই দলটি নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















