পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে দেশটির জাতীয় পরিষদে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশনে বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা ইমরান খানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।
অধিবেশন শুরুর পরই বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই আসন থেকে দাঁড়িয়ে বলেন, সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে বিরোধী সদস্যরা অধিবেশনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না এবং আসন্ন বাজেট অধিবেশনও বয়কট করতে পারেন।
তবে বক্তব্য দেওয়ার সময় আচাকজাইয়ের মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তার বক্তব্য সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমেও দেখানো হয়নি।
পার্লামেন্টে স্লোগান ও প্রতীকী অধিবেশন

বিক্ষোভ চলাকালে পিটিআই সদস্যরা স্পিকারের আসনের সামনে জড়ো হয়ে নিজেদের নেতাদের পক্ষে স্লোগান দেন। তারা প্রতীকীভাবে বিকল্প অধিবেশনও পরিচালনা করেন এবং আচাকজাইকেই অস্থায়ী স্পিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। পরে পিটিআই সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। কোরাম সংকট তৈরির চেষ্টাও করা হয়, কিন্তু সরকারপক্ষের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য উপস্থিত থাকায় অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
শেষ পর্যন্ত জাতীয় পরিষদ দুটি আইনের সংশোধনীও অনুমোদন করে। আগামী মঙ্গলবার আবার অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গণহারে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ
এদিকে একই অধিবেশনে পাকিস্তানিদের সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গণহারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে— এমন খবরও নাকচ করেছে সরকার। পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রী ডা. তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্য সঠিক নয়।

তিনি দাবি করেন, কোনো দেশ থেকে ব্যাপক হারে পাকিস্তানিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে অপরাধে দণ্ডিত ও কারাভোগ করা ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত পাকিস্তানি শ্রমিকদের কাছ থেকে মোট ৯ হাজারের বেশি শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সৌদি আরব থেকে।
পাঁচ বছরে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ফেরত ১ লাখ ৬৪ হাজার পাকিস্তানি
সরকারি তথ্যে আরও জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৮৮ পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সৌদি আরব থেকে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাকিস্তানি দেশে ফিরেছেন।
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইমরান খানের স্বাস্থ্য, বিরোধী দলের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















