অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে থাইল্যান্ডে ভোক্তা আস্থা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে মানুষের অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস এখন সবচেয়ে নিচের অবস্থানে পৌঁছেছে।
জরিপ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডের জাতীয় ভোক্তা সূচক বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ এখন খরচের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছে। বড় কেনাকাটা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন পণ্যের ক্ষেত্রেও অনেকে ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছেন।
অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে খারাপ বলে মনে করছেন। অনেকেই মনে করছেন, সরকার এখনো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে চাকরির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, অবসর সঞ্চয় এবং সন্তানদের শিক্ষাব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকে আগামী কয়েক মাসে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলেও বিশ্বাস করছেন না।
খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন মানুষ
জরিপে উঠে এসেছে, অনেক থাই নাগরিক এখন আগের তুলনায় কম খরচ করছেন এবং কেনাকাটার আগে বেশি সময় নিচ্ছেন। ছাড়ে পাওয়া পণ্যের প্রতি ঝোঁকও বেড়েছে। উচ্চ আয়ের মানুষদের মধ্যেও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা বেড়েছে, যা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব
আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং জ্বালানি দামের অনিশ্চয়তাও মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব থাইল্যান্ডের মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, দুর্নীতি, দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি এবং অপরাধ এখন দেশটির মানুষের বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অনেকে মনে করছেন, দেশটি ভুল পথে এগোচ্ছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা এবং গ্রাহকের আস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ক্রেতারা এখন বিলাসী ব্যয়ের বদলে প্রয়োজনীয় খরচকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
এছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়ির প্রতিও মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও সাশ্রয়ী পণ্যের বাজার আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















