০২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে বনানীতে প্রাণ গেল শিশুর সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ শ্রমিকের, শোকে স্তব্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতারণা মামলায় বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রধান ঈদের জামাত, খারাপ আবহাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিতর্ক, অর্থনীতিতে নতুন চাপের আশঙ্কা দুধ-ডিম-রুটির দাম বেঁধে দেওয়ার চাপে ক্ষুব্ধ সুপারমার্কেটগুলো হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত, তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরুতে স্বস্তি বিশ্ববাজারে ওমানে মারা যাওয়া চার ভাইয়ের মরদেহ রাঙ্গুনিয়ায়, কান্নায় ভেঙে পড়ল স্বজনরা আর্সেনালের ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান, সমালোচকদের জবাব দিলেন সাকা সিঙ্গাপুরে প্রথম বিদেশি এআই গবেষণাগার খুলছে ওপেনএআই, বিনিয়োগ ২৩৪ মিলিয়ন ডলার

কঙ্গোয় ভয়াবহ ইবোলা আতঙ্ক, পরীক্ষাধীন ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে যে পরীক্ষাধীন টিকা ও ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত শত শত সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, কঙ্গোতে নতুন প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫০০ সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

সংক্রমণ সীমান্ত ছাড়ানোর আশঙ্কা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রোগটি খুব দ্রুত দক্ষিণ সুদানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। চিকিৎসাকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় গ্লাভস, মাস্ক ও সুরক্ষা পোশাকেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

WHO chief concerned over 'scale and speed' of Ebola outbreak : NPR

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলার এই ধরনটির মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন ধরনের ভাইরাস, নেই অনুমোদিত টিকা

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির জিনগত তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সংক্রমিত প্রাণীর মাধ্যমে প্রথম একজন মানুষের শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করে পরে মানুষে মানুষে ছড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন সম্ভাব্য পরীক্ষাধীন টিকা ও ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করছে। তবে আগে ব্যবহৃত টিকাগুলো বর্তমান এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না বলেই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

Rare Ebola outbreak poses low risk globally but worries mount about its  spread in Congo | World | yakimaherald.com

ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতোমধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত কয়েকটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এক মার্কিন নাগরিক আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে জার্মানিতে নেওয়া হয়েছে।

সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে। গত কয়েক মাসে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল থাকায় নতুন এই সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

চিকিৎসা সহায়তাকারীরা বলছেন, স্থানীয় মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকেই বঞ্চিত। এর মধ্যে ইবোলার মতো প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। এতে উচ্চ জ্বর, বমি, রক্তক্ষরণসহ নানা গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। অতীতের বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

WHO considers use of experimental vaccines as Ebola cases and deaths rise  in DRC | Ebola | The Guardian

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে বনানীতে প্রাণ গেল শিশুর

কঙ্গোয় ভয়াবহ ইবোলা আতঙ্ক, পরীক্ষাধীন ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

১১:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে যে পরীক্ষাধীন টিকা ও ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত শত শত সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, কঙ্গোতে নতুন প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫০০ সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

সংক্রমণ সীমান্ত ছাড়ানোর আশঙ্কা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রোগটি খুব দ্রুত দক্ষিণ সুদানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। চিকিৎসাকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় গ্লাভস, মাস্ক ও সুরক্ষা পোশাকেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

WHO chief concerned over 'scale and speed' of Ebola outbreak : NPR

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলার এই ধরনটির মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন ধরনের ভাইরাস, নেই অনুমোদিত টিকা

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির জিনগত তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সংক্রমিত প্রাণীর মাধ্যমে প্রথম একজন মানুষের শরীরে ভাইরাসটি প্রবেশ করে পরে মানুষে মানুষে ছড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন সম্ভাব্য পরীক্ষাধীন টিকা ও ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করছে। তবে আগে ব্যবহৃত টিকাগুলো বর্তমান এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না বলেই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

Rare Ebola outbreak poses low risk globally but worries mount about its  spread in Congo | World | yakimaherald.com

ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতোমধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত কয়েকটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাতেও সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এক মার্কিন নাগরিক আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে জার্মানিতে নেওয়া হয়েছে।

সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে। গত কয়েক মাসে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল থাকায় নতুন এই সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

চিকিৎসা সহায়তাকারীরা বলছেন, স্থানীয় মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকেই বঞ্চিত। এর মধ্যে ইবোলার মতো প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। এতে উচ্চ জ্বর, বমি, রক্তক্ষরণসহ নানা গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। অতীতের বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

WHO considers use of experimental vaccines as Ebola cases and deaths rise  in DRC | Ebola | The Guardian