ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার গলানিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মারা যাওয়া শ্রমিকরা হলেন মেহেদী হাসান, হৃদয়, ইমাম হোসেন ও আরমান। তাদের সবাই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার বাড়িতে একটি সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুরের দিকে প্রথমে হৃদয় ও মেহেদী ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ পরও তারা কোনো সাড়া না দেওয়ায় অন্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এরপর ইমাম হোসেন ও আরমান তাদের উদ্ধারে ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তারাও সেখানে অচেতন হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেলের দিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের ট্যাংকের ভেতরে নামানো হয়েছিল, যা এই প্রাণহানির বড় কারণ হতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেপটিক ট্যাংক বা বদ্ধ স্থানে কাজ করার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















