হামের টিকার দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির দাবি, সম্ভাব্য টিকা সংকট সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০টি বৈঠকেও একই উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তবু পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় দেশে হামের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
বুধবার রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশের জেপিজি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
ইউনিসেফ জানায়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ মোট ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা পেয়েছে। অথচ দেশে বছরে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ওই সময়ে প্রাপ্ত টিকা ছিল মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতির কারণে দেশের রুটিন টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়। ফলে বহু শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি এবং সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং বড় আকারের প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়।
বারবার সতর্কবার্তা
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ জানায়, ২০২৪ সাল থেকেই তারা সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে টিকা সংকট নিয়ে আলোচনা করে আসছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে আগাম অবহিত করা হয়েছিল।
সংস্থাটি বলছে, শুধু বৈঠক নয়, ৫ থেকে ৬টি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমেও টিকা সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সংকটের পেছনে কী কারণ
ইউনিসেফের মতে, এই সংকট অর্থের অভাবের কারণে তৈরি হয়নি। বরং টিকা সংগ্রহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।
সংস্থাটি বলছে, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার বিলম্বের কারণে প্রয়োজনীয় টিকা দেশে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে।

পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। চলতি বছরের মে মাস থেকে আবারও দেশে নিয়মিতভাবে হামের টিকা আসতে শুরু করেছে।
সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা এখন টিকাদান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা এবং প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইউনিসেফ মনে করছে, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট এড়াতে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















