পল্লবীর মিরপুর-১১ এর একটি আবাসিক ভবনে মঙ্গলবার সকালে পাওয়া গেল এক নির্মম দৃশ্য। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার (৮) নিজের বাসার পাশের ফ্ল্যাটে খুন হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করে মাথা দেহ থেকে আলাদা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রতিবেশীর দরজায় জুতা, ভেতরে লুকানো সত্য
রামিসার মা পারভিন বেগম সকাল সাড়ে দশটার দিকে মেয়েকে বাসায় খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পাশের ভাড়াটে সোহেল রানার দরজার বাইরে রামিসার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। বারবার দরজায় ডাকাডাকি করলেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে এলাকাবাসী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের নিচে রামিসার দেহ এবং বাথরুমে মাথা খুঁজে পায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, সোহেল রানা (৩৪), একজন রিকশা মেকানিক, ঘটনার পর পালিয়ে যায়। তবে সন্ধ্যা সাতটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকেও (২৭) আটক করা হয়েছে।
ট্রফিভরা তাক, এখন শুধু শূন্যতা
রামিসা ক্লাস ওয়ানে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। প্লে-গ্রুপ ও কেজিতেও সে দ্বিতীয় হয়েছিল। বাসায় তার পুরস্কারের ট্রফিগুলো এখনো সাজানো আছে। বড় বোন রাইসা (১০) নীরবে সেদিকে তাকিয়ে ছিল। সে বলল, “আপু অনেক ভালো ছাত্রী ছিল। পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল।” ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপির মিরপুর বিভাগীয় উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















