০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ দাবি করেছে ভারত। হারটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি সইয়ের বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চুক্তি করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চার্জ নির্ধারণের পেছনে যে কারণ

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) প্রথমে প্রতি ইউনিটে ০.০১ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরে বিপিডিবির আবেদনের পর তা অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়। ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের দাবি অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় এবং গ্রিড পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজের ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হবে।

ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করতে পারে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন ও বিপিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এই বিদ্যুতের জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

বছরে ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে শুধু বিদ্যুতের মূল দামই পরিশোধ করে না বাংলাদেশ; কোথাও কোথাও হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জও দিতে হয়। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন এসএনএ চার্জ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এর মূল দাম বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য আলাদাভাবে ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা হুইলিং চার্জও দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে চার উৎস থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পেছনে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

নতুন এসএনএ চার্জ প্রতি ইউনিটে মাত্র ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হলেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর মোট ব্যয় বাড়বে। আমদানির পরিমাণ যত বাড়বে, এই চার্জ বাবদ ব্যয়ও তত বাড়বে। দেশে গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতাও বাড়তে পারে।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন এসএনএ চার্জ যুক্ত হচ্ছে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এ চার্জ দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় বাড়াবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

০৯:০৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ দাবি করেছে ভারত। হারটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি সইয়ের বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চুক্তি করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

চার্জ নির্ধারণের পেছনে যে কারণ

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠি অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) প্রথমে প্রতি ইউনিটে ০.০১ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরে বিপিডিবির আবেদনের পর তা অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়। ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের দাবি অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় এবং গ্রিড পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজের ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হবে।

ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করতে পারে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন ও বিপিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এই বিদ্যুতের জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

বছরে ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে শুধু বিদ্যুতের মূল দামই পরিশোধ করে না বাংলাদেশ; কোথাও কোথাও হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জও দিতে হয়। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন এসএনএ চার্জ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এর মূল দাম বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য আলাদাভাবে ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা হুইলিং চার্জও দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে চার উৎস থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পেছনে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

নতুন এসএনএ চার্জ প্রতি ইউনিটে মাত্র ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হলেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর মোট ব্যয় বাড়বে। আমদানির পরিমাণ যত বাড়বে, এই চার্জ বাবদ ব্যয়ও তত বাড়বে। দেশে গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতাও বাড়তে পারে।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন এসএনএ চার্জ যুক্ত হচ্ছে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এ চার্জ দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় বাড়াবে।