রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার চালকেরা। বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় কর্মঘণ্টা হারানোর পাশাপাশি আয়-রোজগার নিয়েও বিপাকে পড়েছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গ্যাস সংকটের তীব্রতা দেখা যায়। বেশ কিছুদিন ধরে চলা সংকট আরও বেড়েছে বলে জানান চালকেরা। অনেক পাম্পে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও গ্যাস পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য যানবাহনকে।
মিরপুরে দীর্ঘ অপেক্ষা
গাবতলী, কল্যাণপুর, কালশী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতেও ছিল দীর্ঘ লাইন। গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল জানান, দিনে গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গভীর রাতে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় সংকট তীব্র। প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পেয়েছেন, তাতে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছেন। এরপর আবার তাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।
ডেমরায় চার ঘণ্টার অপেক্ষা
ডেমরা এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য পরিবহন চালকদের চার ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় গ্যাস না পাওয়ায় যাত্রী পরিবহন কমে গেছে, ফলে আয়ও কমছে চালকদের। একই সঙ্গে গ্যাস বিক্রি কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন ফিলিং স্টেশন মালিকেরাও।
রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের রেন্ট-এ-কার চালক মো. বশির হাওলাদার জানান, গ্যাসের সংকটের কারণে দূরপাল্লার যাত্রী নিতে পারছেন না। যাত্রী গাড়িতে রেখে গ্যাস নিতে গেলে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে থাকতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।
সবুজবাগেও ‘গ্যাস নেই’
মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকাতেও গ্যাসের চাপ ছিল খুবই কম। অনেক ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে।
শান্ত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক কবির হোসেন বলেন, সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েও দুপুর ২টা পর্যন্ত সিরিয়াল পাননি। তার ভাষ্য, গ্যাসের সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। গ্যাস না পেলেও গাড়ির মালিককে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হচ্ছে।
উত্তরায় সরবরাহ বন্ধ
উত্তরার পরিস্থিতিও ছিল সংকটপূর্ণ। গ্যাসের অভাবে অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ ছিল। যেসব স্টেশন চালু ছিল, সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।
খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ বলেন, রাজধানীর পরিবহনের বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের চাপ কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
সিএনজি চালক জসিম জানান, তিনি রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও গ্যাস পাননি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। সামনে সন্তানদের স্কুলের বেতন দেওয়ার বিষয়টিও তাকে বাড়তি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















