ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন প্রজন্ম বা জেন জি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়ে কটাক্ষ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বিজেপির নতুন জেন জি প্রচার কর্মসূচি এবং এতে দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ দাস বিজেপির এই উদ্যোগকে ব্যঙ্গ করে বলেন, জেন জির কাছে পৌঁছানোর জন্য বিজেপি যে ‘দারুণ মুখগুলো’ বেছে নিয়েছে, তার জন্য তিন দফা করতালি প্রাপ্য।
বিজেপির তরুণবিরোধী মন্তব্যের প্রসঙ্গ
সৌরভ দাস বিশেষভাবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, নিতিন নবীন একসময় তরুণ প্রজন্মকে ‘ভাইরাস’ ও ‘ককরোচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
সৌরভ দাসের প্রশ্ন, এমন মন্তব্যের পর তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য বিজেপির নতুন উদ্যোগ কতটা গ্রহণযোগ্য। তিনি বিজেপির জেন জি প্রচারে নিতিন নবীনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও কটাক্ষ করেন।
স্মৃতি ইরানিকেও নিশানা
বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেছেন সৌরভ দাস। তাঁর বক্তব্যে স্মৃতি ইরানির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সৌরভ দাস দাবি করেন, স্মৃতি ইরানিকে কেন দুই বছরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা খুঁজে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যা মামলা সামলানো এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কটাক্ষ করেন সিজেপির এই মুখপাত্র।
বিজেপির জেন জি প্রচারে নতুন দল
সৌরভ দাসের এই আক্রমণের আগে শনিবার বিজেপি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য একটি বিশেষ জাতীয় দল গঠন করে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি ও বিনোদ তাওড়ে, গুজরাটের মন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি এবং ছত্তিশগড়ের মন্ত্রী ওপি চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন নেতা এতে রয়েছেন।
শনিবার নবীন নবগঠিত জাতীয় দলের প্রথম পরিচিতিমূলক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু হয়। সেখানে তিনি দলের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বা ‘যুবা সংবাদ’-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেন জির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্য
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের তরুণ ভোটারদের আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনা, মতবিনিময় এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। দেশটির সামনে থাকা বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণদের মতামতও এতে গুরুত্ব পেতে পারে।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে নবগঠিত দলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ১৭ আগস্ট ঘোষিত ৬৫ সদস্যের এই দলে ৫১ জন নতুন মুখ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কবিতা পাতিদার, কে সুরেন্দ্রন, মনোজ তিগ্গা ও সন্দীপ পাঠক উল্লেখযোগ্য। নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের মধ্যে রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও রয়েছেন।
আগামী দিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় তরুণ ভোটারদের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ জোরদারের এই উদ্যোগকে দলটির রাজনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















