ঢাকার গুলশান-বনানী কূটনৈতিক এলাকায় কয়েকটি দূতাবাসে অর্থ দাবি করে ই-মেইল পাঠানোর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কূটনীতিক ও বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ওই এলাকায় বসবাস করায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই
রোববার ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কূটনৈতিক এলাকা সব সময় নজরদারির মধ্যে রয়েছে। কূটনীতিক ও বিভিন্ন দেশের ভিআইপিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা আনা হয়নি।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা কখনোই শিথিল করা যায় না। বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
অর্থ দাবির ই-মেইল ভুয়া গোষ্ঠীর
দূতাবাসগুলোতে অর্থ দাবির ই-মেইল পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি ভুয়া গোষ্ঠী অনলাইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারকে বিব্রত করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ই-মেইলে বিকাশ নম্বর, জিজ্ঞাসাবাদ কয়েকজনকে
ডিবি প্রধান জানান, দূতাবাসগুলোতে পাঠানো ই-মেইলে কয়েকটি বিকাশ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই নম্বরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন থেকে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কোনো ধরনের জ্ঞান বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও জানান তিনি।
কয়েকটি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরেও ই-মেইল
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তিন থেকে চারটি দূতাবাস ছাড়াও সরকারের কয়েকটি দপ্তরে একই ধরনের ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তার নেই
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ডিবি প্রধান বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে পুলিশ আশা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















