০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেড। গত ২২ আগস্ট থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

গ্যাস সংকটে প্রথম তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফু-ওয়াং ফুডসই প্রথম কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক প্রকাশনায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় মাস কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক চাপে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। গত দুই অর্থবছরে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি তারা। এমনকি বার্ষিক সাধারণ সভাও আয়োজন করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়।

আগেই ছিল আর্থিক সংকট

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ফু-ওয়াং ফুডসের লোকসান হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপর প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি।

এর আগে ঋণসংক্রান্ত জটিলতাও দেখা দিয়েছিল। ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় নিলামে তোলার তথ্যও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল ফু-ওয়াং ফুডস। তবে পরে ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ জামান।

তিনি জানান, বর্তমানে ঋণসংক্রান্ত সমস্যাটি সমাধান হয়েছে। কিন্তু কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ দুই কারণেই পরিচালনা পর্ষদ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে গ্যাস সংকটের প্রভাব

গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমানো, কিছু ইউনিট বন্ধ রাখা এবং শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কারখানা মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের আগে থেকেই গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে কমছিল। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গ্যাসের চাপ প্রায় ১৫ পিএসআই থাকার কথা, সেখানে গত সপ্তাহে তা কমে ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ে নেমে যায়। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো এলাকায় চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

দরপতন হয়েছে শেয়ারে

কারখানা বন্ধের ঘোষণার পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ারের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। দিন শেষে শেয়ারের দাম ৮৯ পয়সা বা প্রায় শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ১১ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়।

গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস

০৯:১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেড। গত ২২ আগস্ট থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

গ্যাস সংকটে প্রথম তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফু-ওয়াং ফুডসই প্রথম কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক প্রকাশনায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় মাস কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক চাপে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। গত দুই অর্থবছরে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি তারা। এমনকি বার্ষিক সাধারণ সভাও আয়োজন করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়।

আগেই ছিল আর্থিক সংকট

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ফু-ওয়াং ফুডসের লোকসান হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপর প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি।

এর আগে ঋণসংক্রান্ত জটিলতাও দেখা দিয়েছিল। ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় নিলামে তোলার তথ্যও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল ফু-ওয়াং ফুডস। তবে পরে ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ জামান।

তিনি জানান, বর্তমানে ঋণসংক্রান্ত সমস্যাটি সমাধান হয়েছে। কিন্তু কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ দুই কারণেই পরিচালনা পর্ষদ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে গ্যাস সংকটের প্রভাব

গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমানো, কিছু ইউনিট বন্ধ রাখা এবং শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কারখানা মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের আগে থেকেই গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে কমছিল। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গ্যাসের চাপ প্রায় ১৫ পিএসআই থাকার কথা, সেখানে গত সপ্তাহে তা কমে ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ে নেমে যায়। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো এলাকায় চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

দরপতন হয়েছে শেয়ারে

কারখানা বন্ধের ঘোষণার পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ারের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। দিন শেষে শেয়ারের দাম ৮৯ পয়সা বা প্রায় শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ১১ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়।

গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।