ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী আরএইচএস চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে এবার দেখা গেল এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। ১১৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি যৌন সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এই বিখ্যাত ফুল ও উদ্যান প্রদর্শনীতে। আর সেই অংশগ্রহণ ঘিরেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
যৌন সুস্থতা পণ্য নির্মাতা লাভহানি উদ্ভিদ নকশাবিদ জেমস হোয়াইটিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে ‘অ্যাফ্রোডাইটিস হথাউস’ নামের একটি প্রদর্শনী। প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, সৌন্দর্য ও আবেগকে কেন্দ্র করে সাজানো এই উষ্ণমণ্ডলীয় বাগান দর্শকদের জন্য তৈরি করেছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
প্রদর্শনীর নকশায় অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রিক পুরাণের প্রেম ও আবেগের দেবতা অ্যাফ্রোডাইট ও ইরোসকে। ঘন সবুজ গাছপালা, নাটকীয় উপস্থাপনা এবং প্রতীকী নকশার মাধ্যমে পুরাণের কল্পিত ‘প্লেজার গার্ডেন’-কে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ঘর সাজানোর গাছপালা নিয়ে যেমন স্বাভাবিকভাবে আলোচনা হয়, যৌনতা ও অন্তরঙ্গতা সম্পর্কেও তেমন খোলামেলা এবং স্বাস্থ্যকর আলোচনা হওয়া উচিত। এই বার্তাই তারা দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

সীমানা ভাঙার চেষ্টা
জেমস হোয়াইটিং জানান, তিনি প্রতি বছরই নিজের প্রদর্শনীতে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। তার মতে, যৌনতা এমন কোনো বিষয় নয় যা গোপন বা লজ্জার হওয়া উচিত। বরং এটিকে স্বাভাবিক মানবিক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, অনেকেই বাড়িতে যৌন সামগ্রী ব্যবহার করলেও সেটি আড়াল করে রাখেন। সমাজে এখনও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি কাজ করে। এই ধারণা বদলানো দরকার বলেই তিনি মনে করেন।
তার ভাষায়, “বাগান মানুষের কৌতূহল তৈরি করবে, কিছু সামাজিক ট্যাবু ভাঙবে এবং মানুষকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করবে।”
গাছপালায় প্রতীকী উপস্থাপনা
এই প্রদর্শনীতে অর্কিডসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ ব্যবহার করা হয়েছে। ফিলোডেনড্রন স্ক্যানডেন্স ও ট্রেডেস্কান্টিয়ার মতো গাছকে প্রলোভনের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে ক্যালাথিয়া লঙ্গিফোলিয়া, নেপেনথেস আলাটা ও ফিলোডেনড্রন ইরুবেসেন্স দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে আকাঙ্ক্ষা ও আবেগের ধারণা।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অ্যানথুরিয়াম ফুল। আশির দশকে কিছুটা সেকেলে হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে এই ফুল আবার আধুনিক ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জার অংশ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

স্বর্ণপদক জিতে চমক
প্রচলিত ধাঁচের যত্নে সাজানো বাগানের ভিড়ে এই সাহসী ও ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী শেষ পর্যন্ত আরএইচএসের স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে নতুন ধরনের প্রদর্শনীর গ্রহণযোগ্যতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
চারবারের চেলসি পদকজয়ী হোয়াইটিং বলেন, প্রদর্শনীটি নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণপদক পাওয়া তার জন্য বিশেষ আনন্দের।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে আরও নতুন ও সীমানা ভাঙা ধারণার প্রদর্শনী দেখা যাবে এবং ঘরোয়া গাছপালার গুরুত্বও বাড়বে।
তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণের চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশীদারিত্ব চেলসি ফ্লাওয়ার শোয়ের আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যৌন সুস্থতা, আত্মপ্রকাশ এবং জীবনধারা নিয়ে যে খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে, সেই প্রবণতার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে এখানে।
লাভহানির যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক জেমস রোজ বলেন, চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে অংশ নেওয়া শুধু ব্র্যান্ড পরিচিতির বিষয় নয়। এটি দেখায় যে যৌন সুস্থতা নিয়ে আলোচনা এখন ধীরে ধীরে মূলধারার সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছে, যেখানে নকশা, সুস্থতা ও আত্মপ্রকাশ একসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















