ওমানে একটি গাড়ির ভেতরে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। বুধবার ভোরে তাদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর নিজ বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নেওয়া হয়। পরে সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত চার ভাই হলেন রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম জামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ সাহেদ, মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ শহীদ।
ভোরে দেশে পৌঁছে মরদেহ
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৫টার দিকে মাস্কাট থেকে বিশেষ ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সরকারিভাবে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

সকাল ১১টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। পরে গ্রামের বাড়িতেই চার ভাইয়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
দ্রুত সম্পন্ন হয় আইনি প্রক্রিয়া
ওমানে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জানান, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার পরিবহন ব্যয় সরকার বহন করেছে। এছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করেছে প্রবাসী সংগঠনগুলো।

গাড়ির ভেতরে মিলেছিল মরদেহ
গত ১৩ মে ওমানের আল মিলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার তাগিদে বিদেশে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনো পরিবারই কল্পনা করতে পারে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















