ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরল রাজনৈতিক বার্তা দিল মার্কিন সিনেট। যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব প্রক্রিয়াগত ভোটে পাস হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি এগিয়ে নিতে ৫০ জন সিনেটর সমর্থন দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৭টি। চারজন রিপাবলিকান সিনেটর নিজেদের দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়, তবুও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের ভেতরকার অস্বস্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
সংবিধান বনাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যেন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার কথা। সেই বিষয়টি সামনে এনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
)
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন, যিনি প্রস্তাবটির উদ্যোক্তা, বলেন বর্তমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি কংগ্রেসে খোলামেলা আলোচনা করার উপযুক্ত সময়। তার অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের কাছে কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব এলেও সেগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে ভাগ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, শান্তির সম্ভাবনা থাকলেও প্রশাসন তা গুরুত্ব না দিয়ে সামরিক অবস্থান বজায় রাখছে, যা ভবিষ্যতে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পথ এখনো কঠিন
যদিও সিনেটে প্রস্তাবটি এগিয়েছে, এটি কার্যকর করতে এখনো বড় বাধা রয়েছে। প্রথমে এটি পুরো সিনেটে পাস হতে হবে। এরপর রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও অনুমোদন পেতে হবে। সবশেষে ট্রাম্প যদি ভেটো দেন, তাহলে সেই ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।
এর আগে চলতি বছরে একই ধরনের সাতটি উদ্যোগ রিপাবলিকানদের বাধায় আটকে যায়। প্রতিনিধি পরিষদেও তিনটি প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে ব্যর্থ হয়।
দলীয় বিভাজনেও ব্যতিক্রম
![]()
এই ভোটে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মারকাউস্কি এবং বিল ক্যাসিডি প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন।
বিশেষ করে বিল ক্যাসিডির ভোটকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাম্প-সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে প্রাথমিক নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তার এই অবস্থান আলোচনায় এসেছে।
ইরান সংঘাত নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান সংকট তীব্র আকার নেয়। পরে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজে হামলা ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকানও প্রশ্ন তুলছেন, পরিষ্কার কৌশল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সংঘাতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না।
তবে হোয়াইট হাউস ও রিপাবলিকান নেতৃত্ব বলছে, প্রেসিডেন্ট দেশের নিরাপত্তা রক্ষার সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করছেন। তাদের দাবি, সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















