যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতি ও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে ঘিরে একসঙ্গে কড়া অবস্থান নিয়েছে চীন ও রাশিয়া। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের “গোল্ডেন ডোম” ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং বিশ্বকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
পারমাণবিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ
যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতিকেও “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত রাখার শেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।

রাশিয়া আগেই চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাতে সাড়া না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছে মস্কো ও বেইজিং।
শি-পুতিন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ
শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে ৪০টির বেশি বৈঠক করেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে তারা “সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারত্ব” হিসেবে তুলে ধরছেন। বুধবারের বৈঠকেও সেই ঘনিষ্ঠতার বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক এই পর্যায়ে পৌঁছেছে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতার কারণে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে পুতিন বলেছেন, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক এখন এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে অগ্রগতি নেই
দুই দেশের সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, বড় জ্বালানি চুক্তিতে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি। বিশেষ করে বহু আলোচিত “পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২” গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে নতুন কোনো বড় ঘোষণা আসেনি।

রাশিয়া চেয়েছিল চীনের সঙ্গে আরও জ্বালানি চুক্তি এগিয়ে নিতে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গ্যাসের মূল্যসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
যদিও ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রকল্পের মূল কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাধারণ সমঝোতা হয়েছে, তবে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা
এই বৈঠককে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, বৈশ্বিক রাজনীতির দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান সংকট ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে শি জিনপিং চীনকে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
যৌথ ঘোষণায় দুই দেশ সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব এখন বিভক্তির ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আবারও “জঙ্গলের আইনের” দিকে ফিরে যেতে পারে।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পুতিনকে সম্মান গার্ড ও গোলন্দাজ অভিবাদনের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে চীন ও রাশিয়ার পতাকা হাতে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















