মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন করে ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে যুদ্ধ শুধু এই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আবার শুরু হলে তার জবাব হবে আরও ভয়াবহ এবং সেই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত ইরান তার সামরিক শক্তির পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করেনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন উত্তেজনা
এই হুঁশিয়ারির আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, স্থায়ী সমঝোতা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হতে পারে। তিনি জানান, চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি না হলে সীমিত সময়ের মধ্যেই নতুন সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় আরব নেতারা শেষ মুহূর্তে তাকে সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
যুদ্ধবিরতির পরও অস্থিরতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত প্রায় ৪০ দিন ধরে চলে। পরে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু দুই পক্ষের হুমকি ও পাল্টা হুমকির কারণে পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সেনাবাহিনীর শক্তি ব্যবহার করেও তাদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। দেশটির দাবি, ইসলামি বিপ্লবের পূর্ণ সামরিক শক্তি এখনো মাঠে নামানো হয়নি।

সংঘাতে বড় ক্ষতি ইরানের
এই যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে এবার আরও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। ফলে সামান্য উসকানিতেও নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















