০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা এক নজরে সেরা হিটেড কম্বল ও হিটিং কুশন: আরাম, উষ্ণতা ও বহনযোগ্যতার পরীক্ষায় কে এগিয়ে? ম্যাসাজ পিস্তল কিনবেন? পরীক্ষায় এগিয়ে যে মডেলগুলো, জানুন বিস্তারিত তেলের দাম কমার স্বস্তি, তবে কৃষি খাতে ব্যয়ের চাপ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বসনিয়া কোচ বারবারেজের বিস্ময়কর সাফল্য, বিশ্বকাপে চোখ এখন নকআউট পর্বে এসি-সিআই উদ্যোগে আসিয়ানের সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা, বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ইরাককে বিশ্বকাপে তুলেই থামতে চান না গ্রাহাম আর্নল্ড, সামনে দেখছেন আরও বড় স্বপ্ন নেদারল্যান্ডসে জন্ম, কুরাকাওর জার্সিতে বিশ্বকাপ: ছোট্ট দ্বীপের বড় স্বপ্নের গল্প

ডুয়েটে সপ্তম দিনের শাটডাউন, ভিসি নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা তীব্র

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচি সপ্তম দিনে গিয়ে আরও তীব্র আকার নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা বাইরের কাউকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে। নতুন নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ক্যাম্পাসে বাড়ছে অস্থিরতা

ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা: ৫ দিনেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি  নতুন ভিসি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হল ছেড়ে চলে গেছেন। তবে শিল্প সংযুক্তি কার্যক্রমে থাকা কিছু শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরাও। রংপুর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ডুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাস দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

দেয়াল টপকে যাতায়াত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরাও জানান, আন্দোলনকারীরা গেট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কারও প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন না। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

উপাচার্যের অবস্থান

নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন, বোনাস এবং বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে কবে প্রবেশ করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নজরদারি অব্যাহত আছে।

গত কয়েকদিন ধরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল

ডুয়েটে সপ্তম দিনের শাটডাউন, ভিসি নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা তীব্র

০১:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচি সপ্তম দিনে গিয়ে আরও তীব্র আকার নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা বাইরের কাউকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে। নতুন নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ক্যাম্পাসে বাড়ছে অস্থিরতা

ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা: ৫ দিনেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি  নতুন ভিসি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হল ছেড়ে চলে গেছেন। তবে শিল্প সংযুক্তি কার্যক্রমে থাকা কিছু শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরাও। রংপুর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ডুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাস দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

দেয়াল টপকে যাতায়াত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হতে হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরাও জানান, আন্দোলনকারীরা গেট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কারও প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন না। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

উপাচার্যের অবস্থান

নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দাবি করেছেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বেতন, বোনাস এবং বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে কবে প্রবেশ করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নজরদারি অব্যাহত আছে।

গত কয়েকদিন ধরে ডুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।