বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দলটির প্রধান কোচ সের্গেই বারবারেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় দলকে নতুন পরিচয় দিয়েছেন। শুরুতে কঠিন সময় পার করলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং দলীয় ঐক্যের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে দলটি।
পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত সাফল্য
বারবারেজ জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ইউরো ২০২৮-কে মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরেছিলেন। কারণ তখন জাতীয় দলে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। তবে খেলোয়াড়দের পরিশ্রম, ইতিবাচক মানসিকতা এবং দলের ভেতরের শক্ত বন্ধন প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ফল এনে দেয়। তার মতে, বিশ্বকাপে ওঠা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফল।
কঠিন সময়ে ভেঙে পড়েননি
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আট ম্যাচে জয়হীন ছিল বসনিয়া। এমনকি জার্মানির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারও দেখতে হয়েছিল দলকে। তবে সেই সময়ে পরিকল্পনা বদল না করে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যান বারবারেজ। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি নতুন দল গড়তে গেলে কঠিন মুহূর্ত আসবেই। সেই পরীক্ষার সময় পার করেই দলটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।
প্রবাসী ফুটবলারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান
নতুন দল গঠনের অংশ হিসেবে একাধিক নতুন খেলোয়াড়কে দলে আনা হয়। তাদের অনেকেই বিদেশে বেড়ে উঠেছেন এবং অন্য দেশের হয়ে খেলার সুযোগও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের শিকড়ের টানেই বসনিয়ার জার্সি বেছে নেন। বারবারেজের মতে, এটি শুধু ফুটবলের সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং আবেগ ও আত্মপরিচয়ের বিষয়ও ছিল।
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
কোচের বিশ্বাস, বর্তমান দলটির সামর্থ্য আরও অনেক বেশি। তরুণ খেলোয়াড়দের একটি বড় অংশ এখনও তাদের সেরা সময়ে পৌঁছায়নি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিভা থাকলেই হবে না, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং সঠিক মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকে তিনি শেষ গন্তব্য নয়, বরং একটি বড় যাত্রার শুরু হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নাটকীয় জয়ের পর দেশজুড়ে উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই স্মৃতি এখনও আবেগাপ্লুত করে বারবারেজকে। তিনি বলেন, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং জাতির একতাবদ্ধ উদযাপন তাকে নতুন অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং কাতারের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। বারবারেজ মনে করেন, বিশ্বকাপে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবুও তার দলের লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সুযোগ পেলে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্যায়ে পৌঁছানো।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















