আসিয়ান অঞ্চলের সৃজনশীল শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এসি-সিআই বা আসিয়ান সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্যোগকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ব্যবসায়িক মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল খাতের প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি হবে।
সৃজনশীল অর্থনীতির বাড়ন্ত গুরুত্ব
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতির বাজার কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যমানের। চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, গেমিং, নকশা, ফ্যাশন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সংগীতের মতো খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আসিয়ান অঞ্চলেও এসব শিল্প অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও এই খাতের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। দেশটির সৃজনশীল শিল্পের অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এসি-সিআই
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসিয়ানের সৃজনশীল খাতে প্রতিভার অভাব নেই। তবে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসি-সিআই এসব সমস্যার সমাধানে একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নীতিগত গবেষণা, উদ্ভাবন সহায়তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত
আসিয়ান অঞ্চলে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের। সৃজনশীল খাতের গেম ডেভেলপার, ফ্যাশন ডিজাইনার, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কারুশিল্পভিত্তিক উদ্যোক্তারা এই উদ্যোগ থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন।
এসি-সিআইয়ের আওতায় ব্যবসায়িক সংযোগ, নতুন উদ্যোগের বিকাশ, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার মতো কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

মানবসম্পদ হবে প্রধান শক্তি
সৃজনশীল শিল্পের মূল সম্পদ হলো দক্ষ জনশক্তি। তরুণ, প্রযুক্তি-সচেতন এবং সৃজনশীল কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী দিনের লক্ষ্য
আসিয়ান নেতারা চলতি বছরের শীর্ষ সম্মেলনে এই উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই কেন্দ্রটি কার্যক্রম শুরু করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এর মাধ্যমে সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















