০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
পানির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়বে নতুন প্রজন্ম হত্যার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের বিমান বদল, গোপনে ছোট সামরিক বিমানে সরানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে তুরস্কে ইরানি হামলার আশঙ্কা, গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হতেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল এক সপ্তাহেই দ্বিতীয়বার সোনার দাম বাড়ল, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার প্রধান নৌঘাঁটিতে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধজাহাজ ও বন্দর অবকাঠামো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ওলি আহমেদের মনোনয়ন জমা, ৩৫ বছর পর মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে ভোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ: মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন জমা, মুখোমুখি বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট ঝু রংজির বইয়ে ফিরে দেখা চীনের এক উদার সময় থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা: নিহত ৯, শোকের ছায়ায় ব্যাংককের উপকণ্ঠ

ঝু রংজির বইয়ে ফিরে দেখা চীনের এক উদার সময়

চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি বুধবার মারা যাওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর প্রকাশিত বক্তৃতা, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের সংকলন ঘেঁটে চীনের এমন এক সময়ের ছবি সামনে আসছে, যখন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আজকের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা ভাষায় সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।

ঝু রংজি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অর্থনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে চীনের আরও গভীর সংযোগ তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে তাঁর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক এখন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে—তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে এবং কঠিন সমালোচনা শুনতে তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।

সমালোচনাকে ভয় পেতেন না ঝু

ঝু রংজির বিভিন্ন বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি সংবাদমাধ্যমকে শুধু সরকারের সিদ্ধান্ত প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন না। বরং তিনি মনে করতেন, সরকারের ভুল ও দুর্বলতা তুলে ধরার জন্য স্বাধীন ও সমালোচনামূলক মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

২০০২ সালের নভেম্বরে হংকং সফরের সময়ও তিনি শহরটির সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে, হংকংয়ের মুক্ত সংবাদমাধ্যম চীনের জন্য এমন একটি মূল্যবান উৎস ছিল, যেখান থেকে সরকার নিজের কাজের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন শুনতে পারত।

আজকের চীনের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে সেই অবস্থানের পার্থক্যই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। বর্তমানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব, রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিংবা উদার গণতন্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অথচ ঝু রংজির সময়ের কিছু বক্তব্যে এসব বিষয় নিয়েও তুলনামূলকভাবে সরাসরি আলোচনা দেখা যায়।

বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবেশ

ঝু রংজির রাজনৈতিক জীবন এমন একটি সময়ে গড়ে উঠেছিল, যখন চীন অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করছিল। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনাতেও কিছুটা বেশি জায়গা তৈরি হয়েছিল।

তাঁর বক্তব্যের সংকলনগুলো তাই শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাই তুলে ধরে না; এগুলো চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ভিন্ন অধ্যায়েরও দলিল।

 

বিশেষজ্ঞদের কাছে এসব বই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত এই কারণে যে, এগুলো দেখায়—চীনের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সব সময় একই রকম ছিল না। একসময় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতেন, সমালোচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতেন এবং এমন কিছু রাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেন, যেগুলো এখন অনেক বেশি স্পর্শকাতর।

অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম মুখ

ঝু রংজির সবচেয়ে বড় পরিচয় অবশ্যই চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন এবং অর্থনীতিকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তাঁর নেতৃত্বেই চীন বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যায়। ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চীনের যোগদানও তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ঘটে।

তবে ঝু রংজির উত্তরাধিকার শুধু অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য ও আচরণ চীনের নেতৃত্বের এমন একটি সময়কে স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন সরকারের ভেতরে সংস্কার, উন্মুক্ততা এবং বাইরের সমালোচনা থেকে শেখার বিষয়গুলো নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচনা হতো।

একটি হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি

ঝু রংজির মৃত্যুর পর তাঁর বই ও বক্তব্য নতুন করে পড়ার আগ্রহ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ এটাই। এগুলো চীনের অতীতের এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বর্তমান বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি উন্মুক্ত বলে মনে হয়।

ঝু রংজির উত্তরাধিকার তাই শুধু অর্থনৈতিক সংস্কার কিংবা চীনের বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবেশের ইতিহাস নয়। তাঁর বক্তব্যগুলো একই সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক আলোচনায় এক সময় যে ভিন্ন ধরনের পরিসর ছিল, তারও স্মারক হয়ে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পানির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গড়বে নতুন প্রজন্ম

ঝু রংজির বইয়ে ফিরে দেখা চীনের এক উদার সময়

০৭:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি বুধবার মারা যাওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর প্রকাশিত বক্তৃতা, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের সংকলন ঘেঁটে চীনের এমন এক সময়ের ছবি সামনে আসছে, যখন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আজকের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা ভাষায় সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।

ঝু রংজি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অর্থনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে চীনের আরও গভীর সংযোগ তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে তাঁর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক এখন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে—তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে এবং কঠিন সমালোচনা শুনতে তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।

সমালোচনাকে ভয় পেতেন না ঝু

ঝু রংজির বিভিন্ন বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি সংবাদমাধ্যমকে শুধু সরকারের সিদ্ধান্ত প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন না। বরং তিনি মনে করতেন, সরকারের ভুল ও দুর্বলতা তুলে ধরার জন্য স্বাধীন ও সমালোচনামূলক মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

২০০২ সালের নভেম্বরে হংকং সফরের সময়ও তিনি শহরটির সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে, হংকংয়ের মুক্ত সংবাদমাধ্যম চীনের জন্য এমন একটি মূল্যবান উৎস ছিল, যেখান থেকে সরকার নিজের কাজের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন শুনতে পারত।

আজকের চীনের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে সেই অবস্থানের পার্থক্যই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। বর্তমানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব, রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিংবা উদার গণতন্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অথচ ঝু রংজির সময়ের কিছু বক্তব্যে এসব বিষয় নিয়েও তুলনামূলকভাবে সরাসরি আলোচনা দেখা যায়।

বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবেশ

ঝু রংজির রাজনৈতিক জীবন এমন একটি সময়ে গড়ে উঠেছিল, যখন চীন অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করছিল। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনাতেও কিছুটা বেশি জায়গা তৈরি হয়েছিল।

তাঁর বক্তব্যের সংকলনগুলো তাই শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাই তুলে ধরে না; এগুলো চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ভিন্ন অধ্যায়েরও দলিল।

 

বিশেষজ্ঞদের কাছে এসব বই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত এই কারণে যে, এগুলো দেখায়—চীনের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সব সময় একই রকম ছিল না। একসময় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতেন, সমালোচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতেন এবং এমন কিছু রাজনৈতিক ধারণা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেন, যেগুলো এখন অনেক বেশি স্পর্শকাতর।

অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম মুখ

ঝু রংজির সবচেয়ে বড় পরিচয় অবশ্যই চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন এবং অর্থনীতিকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তাঁর নেতৃত্বেই চীন বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যায়। ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চীনের যোগদানও তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ঘটে।

তবে ঝু রংজির উত্তরাধিকার শুধু অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য ও আচরণ চীনের নেতৃত্বের এমন একটি সময়কে স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন সরকারের ভেতরে সংস্কার, উন্মুক্ততা এবং বাইরের সমালোচনা থেকে শেখার বিষয়গুলো নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচনা হতো।

একটি হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি

ঝু রংজির মৃত্যুর পর তাঁর বই ও বক্তব্য নতুন করে পড়ার আগ্রহ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ এটাই। এগুলো চীনের অতীতের এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বর্তমান বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি উন্মুক্ত বলে মনে হয়।

ঝু রংজির উত্তরাধিকার তাই শুধু অর্থনৈতিক সংস্কার কিংবা চীনের বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবেশের ইতিহাস নয়। তাঁর বক্তব্যগুলো একই সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক আলোচনায় এক সময় যে ভিন্ন ধরনের পরিসর ছিল, তারও স্মারক হয়ে আছে।