গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ চলমান আন্দোলন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর মধ্যেই অবশেষে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় শুক্রবার থেকে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হল ত্যাগ করে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রমে যোগ দেন নতুন উপাচার্য।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল জানান, রোববার থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ছুটি ও প্রশাসনিক অনুমোদনসহ শতাধিক ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন নতুন উপাচার্য।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত
এর আগে উপাচার্যবিরোধী একাংশের শিক্ষার্থীরা ‘রেড কার্ড’ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় অচল করে দেয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের নিয়োগ বাতিল এবং বর্তমানে ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া।

নিয়োগ ঘিরেই উত্তেজনা
সরকার সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগ ঘোষণার পরপরই ডুয়েটের একাংশের শিক্ষার্থী এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে।
তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে না। তাই তারা ডুয়েটের বর্তমান শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন।
চলমান এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডুয়েটে আন্দোলনের মধ্যেই নতুন ভিসির দায়িত্ব গ্রহণ, ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















