পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোট ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০১৪তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
খান ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ
প্রথম ঘটনায় খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সাত পরিচালক ও কর্মকর্তাকে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, যা সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।
জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান এবং পরিচালক মো. রুহুল কবির খান, হাজরত আলী ও জারিন কবির খানকে পৃথকভাবে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আজিজুল জব্বারকে ১০ লাখ এবং কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এসব জরিমানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে।
জেনেক্স ইনফোসিসের বিরুদ্ধে লভ্যাংশ বিতরণে বিলম্ব
দ্বিতীয় ঘটনায় জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসির আট পরিচালক ও বর্তমান বোর্ড সদস্যকে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের ঘোষিত ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হয়নি।
প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল উদ্দিন, পরিচালক চৌধুরী ফজলে ইমাম, প্রিন্স মজুমদার, ওরাকল সার্ভিসেস পিএলসি, নীলোফার ইমাম এবং তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিব।
আফতাব অটোমোবাইলসকে কঠোর নির্দেশ
তৃতীয় ঘটনায় আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের সাত পরিচালক ও কর্মকর্তাকে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৯ টাকা ৬৭ পয়সা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মোট ঘোষিত লভ্যাংশ ছিল ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা।
চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে পৃথকভাবে ৩০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পরিচালক খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলামকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে ১০ লাখ এবং কোম্পানি সচিবকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসি কোম্পানিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া লভ্যাংশ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের পাওনা লভ্যাংশ পরিশোধের দায় থেকেও কোম্পানি অব্যাহতি পাবে না বলে কমিশন জানিয়েছে।
নিরাপদ বিনিয়োগে সচেতনতা কার্যক্রম
এদিকে বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ বিষয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএসইসিতে ফোকাল পয়েন্ট ও ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পুঁজিবাজারে অনিয়মে বিএসইসির জরিমানা
বিএসইসি তিন কোম্পানির বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থানে বিএসইসি। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















