তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মাধ্যমে। সরকার গঠনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার একসঙ্গে ২৩ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নেন। এর মধ্যে ২১ জন বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের এবং ২ জন কংগ্রেসের বিধায়ক। প্রায় ছয় দশক পর তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের যোগদানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সকাল থেকেই অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়ের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা প্রথম দফায় শপথ নেন।
মন্ত্রিসভার শক্তি বাড়ল
এই সম্প্রসারণের পর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। পুরো মন্ত্রিপরিষদের মোট সংখ্যা এখন ৩৫। এর আগে ১০ মে চেন্নাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়সহ আরও কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন।
নতুন সম্প্রসারণে বিভিন্ন অঞ্চল ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা দেখা গেছে। দলীয় ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব ভাগ করে দিতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
![]()
কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কংগ্রেসের দুই বিধায়কের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি। প্রায় ৫৯ বছর পর তামিলনাড়ুর সরকারে কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব ফিরল। এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলেই বর্ণনা করছেন রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শপথ নেওয়া দুই নেতা হলেন কিল্লিয়ুরের বিধায়ক এস রাজেশ কুমার এবং মেলুরের বিধায়ক পি বিশ্বনাথন। দুজনই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
রাজেশ কুমার কন্যাকুমারী জেলার পরিচিত মুখ। তিনি এর আগেও একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন এবং জেলা কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে পি বিশ্বনাথন আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। তিনি অতীতে সাংসদ ছিলেন এবং কংগ্রেসের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় রাজনীতিতেও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
বিজয়ের দলের প্রাধান্য
নতুন মন্ত্রিসভায় বিজয়ের দলের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। থুথুকুড়ি, কাঞ্চিপুরম, সেলেম, কোয়েম্বাটুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্বাচিত বিধায়কেরা মন্ত্রী হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, দলীয় ভিত্তি শক্তিশালী করতে অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্বকে সামনে আনতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারকে স্থিতিশীল ও কার্যকর করতে এই সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কংগ্রেসকে পাশে রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিতও মিলছে।
তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে বিজয়ের দলে ২১ ও কংগ্রেসের ২ বিধায়কের শপথ, রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















