নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির এক স্থানীয় নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার কাউন্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওসমান গনি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবং ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি উপজেলার বড় বিনাইচর এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাতে কাউন্দার চাক এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ওসমান গনির পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাহফুজ ভূঁইয়া বাবুল জানান, তারা কাউন্দার চাক এলাকায় একটি জমি কিনেছিলেন। সেখানে শ্রমিকরা মাটি কেটে ডাম্প ট্রাকে তুলছিলেন। তিনি গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় মুখোশধারী একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ ওসমান গনির ওপর হামলা চালায়।
তার দাবি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সেই দাবি না মানায় ওসমান গনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ক্ষোভে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বড় বিনাইচর এলাকায় আড়াইহাজার-ভুলতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
পুলিশের বক্তব্য
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-সি) মেহেদী ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















