যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে শিগগিরই হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শনিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
মার্কো রুবিওর এটি ভারতের প্রথম সরকারি সফর। কলকাতা সফর শেষে তিনি দিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এবং মার্কিন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ভারত সফরের সময় রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মোদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদিও এক বার্তায় জানান, বৈঠকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বের অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কৌশলগত সম্পর্কের নতুন বার্তা
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্য উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। রুবিওও সফরের আগে ভারতকে ওয়াশিংটনের “ভাইটাল পার্টনার” বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে চীনকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রশ্নে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী ২৬ মে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগেই রুবিওর সফর কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি ও বাণিজ্য আলোচনায় গুরুত্ব
ভারতের সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান-সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়ায় ভারত নতুন উৎস ও স্থিতিশীল জ্বালানি সহযোগিতার পথ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রও ভারতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ এবং বাণিজ্যিক মতপার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশই চলমান উত্তেজনা কমিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পথ খুঁজছে।
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে ভারত মার্কিন তৈরি একাধিক সামরিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, যার মধ্যে রয়েছে পি-৮ পোসাইডন বিমান, এমকিউ-৯বি ড্রোন, এম৭৭৭ হাউইটজার এবং সি-১৭ পরিবহন বিমান।
শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, সামরিক প্রযুক্তি যৌথভাবে উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও মহাকাশ প্রযুক্তিতেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
কলকাতায় মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠানে সফর
দিল্লিতে যাওয়ার আগে রুবিও কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মাদার তেরেসার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর মানবিক কাজের প্রশংসা করেন। সামাজিক মাধ্যমে রুবিও বলেন, মাদার তেরেসা সহমর্মিতা ও মানবসেবার এক অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।
ভারত সফরে রুবিওর আগ্রা ও জয়পুর সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। চার দিনের এই সফরে কোয়াড জোট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বই মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















