শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে বৃষ্টিবহুল ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়ে গাছচাপায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুৎ সংযোগের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
নিহত বৃদ্ধার নাম বেগম বিবি (৬৫)। তিনি নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সকাল প্রায় পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া চলছিল। এর মধ্যেই নালিতাবাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে হঠাৎ শক্তিশালী ঘূর্ণিবাতাস বয়ে যায়, যা পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এতে জোগানিয়া, নন্নী পশ্চিমপাড়া, নন্নী উত্তরবান্দা, চৈচকুড়া ও হাতিপাগারসহ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দেড় মিনিটের তাণ্ডব
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি প্রায় দেড় মিনিট স্থায়ী হলেও এর তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। এতে অন্তত ৫০টি টিনশেড ও কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির চালা উড়ে গেছে এবং অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায় বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ লাইন।
রান্নার সময় প্রাণহানি
ঘূর্ণিঝড় চলাকালে বেগম বিবি তার বাড়ির বারান্দায় রান্না করছিলেন। এ সময় বাড়ির পাশের একটি বড় কাঁঠালগাছ উপড়ে তার ঘরের ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নন্নী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম মাহবুবুর রহমান রিটন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় তার মনে হচ্ছিল পাকা বাড়িটিও হয়তো উড়ে যাবে। ঝড় থামার পর আশপাশের এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান তিনি।
ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রশাসন
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















