বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভকে ঘিরে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি প্রতিবেদনের সংশোধন ও প্রকাশ্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা এর প্রায় অর্ধেক। এছাড়া আরও কিছু স্বাধীন ও তুলনামূলক নিরপেক্ষ প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা আরও কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
শেখ হাসিনার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, জাতিসংঘের মতো একটি সংস্থার প্রতিবেদনে এমন একটি উপসংহার দেওয়া হয়েছে যা বাস্তবতার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে তথ্য-অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং রাজনৈতিক সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল তথ্য ব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক নজির তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনের সংশোধন এবং প্রকাশ্য প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের তদন্ত কার্যক্রমকে আমন্ত্রণ জানায়। তবে আইনজীবীর দাবি, তদন্ত দল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই অনেক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত আরেক অংশে অভিযোগ করা হয় যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর দপ্তরে একাধিক যোগাযোগ জমা পড়েছে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
১,৪০০ নিহতের হিসাব নিয়ে আপত্তি
চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সেই উপসংহারকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে মারা গেছেন।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওএইচসিএইচআর বিভিন্ন উৎসের তথ্য মিলিয়ে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত সরকারি গেজেটে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছে। তার দাবি, এ তথ্যই প্রমাণ করে যে প্রতিবেদনের মূল উপসংহার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
প্রতিবেদন প্রত্যাহারের আহ্বান
চিঠিতে বলা হয়েছে, যদি জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এমন বড় ধরনের পরিসংখ্যানগত অসঙ্গতি থেকে থাকে, তাহলে তা শুধুমাত্র একটি তথ্যগত ভুল নয়; বরং এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘটনাটির মূল্যায়নও প্রভাবিত হতে পারে।
এই কারণেই জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রতি প্রতিবেদনের তথ্য পুনর্মূল্যায়ন, সংশোধন এবং প্রয়োজন হলে প্রকাশ্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি
শেখ হাসিনার আইনজীবীর চিঠিতে জাতিসংঘের বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনের নিহতের সংখ্যা ও তথ্য-অনুসন্ধান প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শেখ হাসিনার আইনজীবী। নিহতের সংখ্যা, তথ্য-অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কী বলা হয়েছে চিঠিতে, পড়ুন বিস্তারিত।
#শেখহাসিনা #জাতিসংঘ #বাংলাদেশরাজনীতি #মানবাধিকার #ওএইচসিএইচআর #জুলাইআন্দোলন #আওয়ামীলীগ #বাংলাদেশ #আন্তর্জাতিকরাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















