প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ ও ২২ জুন কুয়ালালামপুরে দুই দিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও সম্পন্ন হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ভারত, মালয়েশিয়া ও চীনের পক্ষ থেকে সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকেই প্রথম সফরের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক বাস্তবতায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত
দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্বাচন ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করে। সেই বিবেচনায় মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
কেন মালয়েশিয়া?
সরকারের ভেতরে প্রথমে বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌদি আরবে সফরের সম্ভাবনাও আলোচনায় ছিল। পরে চীনও জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বেইজিং সফরের আগ্রহ প্রকাশ করে এবং আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠায়।
তবে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন একটি দেশকে বেছে নেওয়ার ভাবনা গুরুত্ব পায়, যা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে সামনে আসে।
সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় অধ্যয়ন করছেন। ফলে শিক্ষা সহযোগিতাও দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সফরে শ্রমবাজারের পাশাপাশি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে গুরুত্ব পাবে অর্থনীতি ও শিক্ষা
সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, অভিবাসন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিকে যেমন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ খুঁজবে, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বার্তাও তুলে ধরবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















