০২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
আসিয়ানের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় জ্বালানি রূপান্তর এখন অর্থনৈতিক অপরিহার্যতা পাকিস্তানের বাজেট ২০২৬-২৭: ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করবে, নাকি স্বস্তি দেবে সাধারণ মানুষকে? জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় পাকিস্তানসহ ৬০ অর্থনীতির ওপর নতুন শুল্ক প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর বাতিল করল পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক প্রস্তাবে তালিকায় পাকিস্তান, জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে বাড়ছে চাপ করাচিতে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ বিদ্যুতের দাম আবার বাড়তে পারে, ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা ইউক্রেনের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা? পোল্যান্ডের সমর্থন কমলে বাড়তে পারে কিয়েভের চাপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ বাড়ছে, সমাবর্তন মঞ্চে প্রতিবাদের ঝড় দক্ষিণ চীন সাগরের ছোট্ট বালুচর ঘিরে নতুন উত্তেজনা, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ স্যান্ডি কে?

চীনের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নীতি: আফ্রিকায় বাড়ছে প্রভাব, পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা এক চালান আপেল চীনের শেনজেন বন্দরে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশ করে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই চালান ছিল আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য চীনের সম্প্রসারিত শূন্য-শুল্ক নীতির আওতায় প্রবেশ করা প্রথম পণ্য।

চীনের এই নীতির আওতায় আফ্রিকার ৫৩টি দেশ সুবিধা পাচ্ছে। তবে একটি দেশ এই সুবিধার বাইরে রয়েছে। কারণ দেশটি এখনো তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে বেইজিং।

আফ্রিকা নিয়ে বাড়ছে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা

বিশ্বায়নের গতি কমে আসার সময়ে চীনের এই একতরফা শুল্কমুক্ত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকা এখন শুধু উন্নয়নশীল অঞ্চল নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

Into Africa: China's Latest Trade Push to Win New Friends | Alhurra

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরাও আফ্রিকার গুরুত্ব স্বীকার করছেন। তাদের মতে, চীন, রাশিয়া, সন্ত্রাসবাদ এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, গুরুত্ব স্বীকার করা হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এবং বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।

সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা

আফ্রিকায় চীন ও রাশিয়ার তৎপরতা শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের প্রধান লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, বন্দর, অস্ত্রবাজার, সামরিক উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে সমর্থন নিশ্চিত করা।

২০২৫ সালে চীন-আফ্রিকা বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ৩৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আফ্রিকার জনসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটিতে পৌঁছেছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা ২৫০ কোটিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের কোবাল্ট উৎপাদনের বড় অংশ আসে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অনেক বড় খনি চীনা মালিকানায় রয়েছে অথবা চীনের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু খনি নয়, কোবাল্ট পরিশোধনের ক্ষেত্রেও চীনের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

bne IntelliNews - China–Africa trade set to exceed $200bn in 2025 as regional bodies deepen trade links amid US tariffs

বন্দর ও সামরিক উপস্থিতি

আফ্রিকার বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতেও চীনের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। মহাদেশটির শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে জিবুতির গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার পাশেই চীনের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।

অন্যদিকে রাশিয়া মূলত অস্ত্র বিক্রি এবং খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে আফ্রিকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি আফ্রিকার অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার স্বর্ণসম্পদ থেকেও বড় অঙ্কের আয় করছে মস্কো।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকায় চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও কৌশলগত বিনিয়োগে বাজেট সংকোচনের কারণে ওয়াশিংটনের প্রভাব আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ফলে আফ্রিকা এখন শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মহাদেশ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতায় চীন বর্তমানে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।

China-Africa trade makes 'moderate' gains despite US tariffs, currency weakness | South China Morning Post

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিয়ানের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় জ্বালানি রূপান্তর এখন অর্থনৈতিক অপরিহার্যতা

চীনের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নীতি: আফ্রিকায় বাড়ছে প্রভাব, পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

১২:০৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা এক চালান আপেল চীনের শেনজেন বন্দরে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশ করে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই চালান ছিল আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য চীনের সম্প্রসারিত শূন্য-শুল্ক নীতির আওতায় প্রবেশ করা প্রথম পণ্য।

চীনের এই নীতির আওতায় আফ্রিকার ৫৩টি দেশ সুবিধা পাচ্ছে। তবে একটি দেশ এই সুবিধার বাইরে রয়েছে। কারণ দেশটি এখনো তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে বেইজিং।

আফ্রিকা নিয়ে বাড়ছে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা

বিশ্বায়নের গতি কমে আসার সময়ে চীনের এই একতরফা শুল্কমুক্ত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকা এখন শুধু উন্নয়নশীল অঞ্চল নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

Into Africa: China's Latest Trade Push to Win New Friends | Alhurra

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরাও আফ্রিকার গুরুত্ব স্বীকার করছেন। তাদের মতে, চীন, রাশিয়া, সন্ত্রাসবাদ এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, গুরুত্ব স্বীকার করা হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এবং বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।

সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা

আফ্রিকায় চীন ও রাশিয়ার তৎপরতা শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের প্রধান লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, বন্দর, অস্ত্রবাজার, সামরিক উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে সমর্থন নিশ্চিত করা।

২০২৫ সালে চীন-আফ্রিকা বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ৩৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আফ্রিকার জনসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটিতে পৌঁছেছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা ২৫০ কোটিতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের কোবাল্ট উৎপাদনের বড় অংশ আসে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অনেক বড় খনি চীনা মালিকানায় রয়েছে অথবা চীনের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু খনি নয়, কোবাল্ট পরিশোধনের ক্ষেত্রেও চীনের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

bne IntelliNews - China–Africa trade set to exceed $200bn in 2025 as regional bodies deepen trade links amid US tariffs

বন্দর ও সামরিক উপস্থিতি

আফ্রিকার বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতেও চীনের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। মহাদেশটির শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে জিবুতির গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার পাশেই চীনের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।

অন্যদিকে রাশিয়া মূলত অস্ত্র বিক্রি এবং খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে আফ্রিকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি আফ্রিকার অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার স্বর্ণসম্পদ থেকেও বড় অঙ্কের আয় করছে মস্কো।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকায় চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও কৌশলগত বিনিয়োগে বাজেট সংকোচনের কারণে ওয়াশিংটনের প্রভাব আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ফলে আফ্রিকা এখন শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মহাদেশ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতায় চীন বর্তমানে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।

China-Africa trade makes 'moderate' gains despite US tariffs, currency weakness | South China Morning Post