০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
নাইমাহকে ঘিরে তদন্তে নতুন বিতর্ক, পুলিশের দাবিকে চ্যালেঞ্জ আইনজীবীর আসিয়ানের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় জ্বালানি রূপান্তর এখন অর্থনৈতিক অপরিহার্যতা পাকিস্তানের বাজেট ২০২৬-২৭: ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করবে, নাকি স্বস্তি দেবে সাধারণ মানুষকে? জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় পাকিস্তানসহ ৬০ অর্থনীতির ওপর নতুন শুল্ক প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর বাতিল করল পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক প্রস্তাবে তালিকায় পাকিস্তান, জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে বাড়ছে চাপ করাচিতে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ বিদ্যুতের দাম আবার বাড়তে পারে, ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা ইউক্রেনের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা? পোল্যান্ডের সমর্থন কমলে বাড়তে পারে কিয়েভের চাপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ বাড়ছে, সমাবর্তন মঞ্চে প্রতিবাদের ঝড়

বিদ্যুতের দাম আবার বাড়তে পারে, ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা

আগামী মাসের বিদ্যুৎ বিলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৭৪ পয়সা পর্যন্ত বাড়তি খরচ যোগ হতে পারে। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রস্তাব সামনে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসা ও শিল্প খাত—সব ক্ষেত্রেই ব্যয়ের চাপ বাড়বে।

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব

বিদ্যুৎ ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি ব্যয় ছিল প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ টাকা ৯৮ পয়সা। ফলে ওই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের কাছ থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতাও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বিশেষ পদক্ষেপ

Electricity Prices in Pakistan Likely to Rise by Rs1.74 Per Unit

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ব্যয় আরও বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা হয় এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তাদের দাবি, এসব উদ্যোগ না থাকলে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের চাপ আরও বেশি হতে পারত।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়াও ব্যয় বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। কারিগরি সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করতে হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পতন

Nationwide electricity price reduced by Rs 1.71 per unit

তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি ও বিভিন্ন সেবা খাতে চাহিদা কমলেও শিল্প খাতে ব্যবহার বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এই প্রবণতা দেখা গেছে।

লোডশেডিং নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এদিকে একটি বড় শহরে অতিরিক্ত লোডশেডিং নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুসরণ না করে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে হওয়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতাও যথাযথভাবে হিসাব করা হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান অবশ্য দাবি করেছে, তাদের কার্যক্রম বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে স্থানীয়ভাবে কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে এখন ভোক্তাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে আগামী মাসের বিলেই এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।

Power price to go up four times a year | The Daily Star

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নাইমাহকে ঘিরে তদন্তে নতুন বিতর্ক, পুলিশের দাবিকে চ্যালেঞ্জ আইনজীবীর

বিদ্যুতের দাম আবার বাড়তে পারে, ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা

০১:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আগামী মাসের বিদ্যুৎ বিলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৭৪ পয়সা পর্যন্ত বাড়তি খরচ যোগ হতে পারে। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রস্তাব সামনে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসা ও শিল্প খাত—সব ক্ষেত্রেই ব্যয়ের চাপ বাড়বে।

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব

বিদ্যুৎ ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি ব্যয় ছিল প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ টাকা ৯৮ পয়সা। ফলে ওই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের কাছ থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতাও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বিশেষ পদক্ষেপ

Electricity Prices in Pakistan Likely to Rise by Rs1.74 Per Unit

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ব্যয় আরও বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা হয় এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তাদের দাবি, এসব উদ্যোগ না থাকলে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের চাপ আরও বেশি হতে পারত।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়াও ব্যয় বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। কারিগরি সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করতে হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পতন

Nationwide electricity price reduced by Rs 1.71 per unit

তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি ও বিভিন্ন সেবা খাতে চাহিদা কমলেও শিল্প খাতে ব্যবহার বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এই প্রবণতা দেখা গেছে।

লোডশেডিং নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এদিকে একটি বড় শহরে অতিরিক্ত লোডশেডিং নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুসরণ না করে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে হওয়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতাও যথাযথভাবে হিসাব করা হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান অবশ্য দাবি করেছে, তাদের কার্যক্রম বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে স্থানীয়ভাবে কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে এখন ভোক্তাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে আগামী মাসের বিলেই এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।

Power price to go up four times a year | The Daily Star