০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

আসিয়ানের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় জ্বালানি রূপান্তর এখন অর্থনৈতিক অপরিহার্যতা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জ্বালানি রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা, সীমিত জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আসিয়ানকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।

কুয়ালালামপুরে এক জ্বালানি বিষয়ক সম্মেলনে এই বার্তা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বর্তমান সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে অঞ্চলের শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান নির্ধারণ করবে।

বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক দেশে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সময়ে সরকারগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং জলবায়ু প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

When Will Fossil Fuels Run Out?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান উৎপাদন হার অব্যাহত থাকলে প্রমাণিত তেল ও গ্যাসের মজুত প্রায় ৫০ বছর এবং কয়লার মজুত প্রায় ১৩০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে প্রশ্ন শুধু জ্বালানি কতদিন থাকবে তা নয়, বরং কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় পৌঁছানো যায়।

ভূরাজনৈতিক সংকট বাড়াচ্ছে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এর ফলে প্রচলিত জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগোচ্ছে অঞ্চল

জ্বালানি রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ১৩ দশমিক ৩ গিগাওয়াটের বেশি হয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত খাত হিসেবে উঠে এসেছে।

Clean Energy Transition Investment Hits New Record - $1.1 Trillion

এদিকে আগামী এক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বছরে ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চাহিদা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্রের বিস্তার এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

তথ্যকেন্দ্র হবে বড় চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে তথ্যকেন্দ্রগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বিদ্যুৎ-ব্যবহারকারী খাতে পরিণত হচ্ছে।

অর্থনীতি যত বেশি ডিজিটাল হবে, তত বেশি নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

Building the ASEAN Power Grid: Opportunities and Challenges | SEADS

আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর

আসিয়ান বিদ্যুৎ গ্রিড উদ্যোগকে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্তপারের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া জ্বালানি রূপান্তরকে সফল করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেও মত দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থা, বিদ্যুৎ কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পথ

জ্বালানি রূপান্তরের সাফল্য শুধু কত গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো বা কত বিনিয়োগ এলো তার ওপর নির্ভর করবে না। প্রকৃত সাফল্য হবে এমন একটি অর্থনীতি ও সমাজ গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং সহনশীল ভিত্তি তৈরি করবে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ

আসিয়ানের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় জ্বালানি রূপান্তর এখন অর্থনৈতিক অপরিহার্যতা

০১:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য জ্বালানি রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা, সীমিত জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আসিয়ানকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।

কুয়ালালামপুরে এক জ্বালানি বিষয়ক সম্মেলনে এই বার্তা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বর্তমান সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে অঞ্চলের শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান নির্ধারণ করবে।

বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক দেশে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সময়ে সরকারগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং জলবায়ু প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

When Will Fossil Fuels Run Out?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান উৎপাদন হার অব্যাহত থাকলে প্রমাণিত তেল ও গ্যাসের মজুত প্রায় ৫০ বছর এবং কয়লার মজুত প্রায় ১৩০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে প্রশ্ন শুধু জ্বালানি কতদিন থাকবে তা নয়, বরং কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় পৌঁছানো যায়।

ভূরাজনৈতিক সংকট বাড়াচ্ছে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এর ফলে প্রচলিত জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগোচ্ছে অঞ্চল

জ্বালানি রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ১৩ দশমিক ৩ গিগাওয়াটের বেশি হয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত খাত হিসেবে উঠে এসেছে।

Clean Energy Transition Investment Hits New Record - $1.1 Trillion

এদিকে আগামী এক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বছরে ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চাহিদা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্রের বিস্তার এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

তথ্যকেন্দ্র হবে বড় চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে তথ্যকেন্দ্রগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বিদ্যুৎ-ব্যবহারকারী খাতে পরিণত হচ্ছে।

অর্থনীতি যত বেশি ডিজিটাল হবে, তত বেশি নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

Building the ASEAN Power Grid: Opportunities and Challenges | SEADS

আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর

আসিয়ান বিদ্যুৎ গ্রিড উদ্যোগকে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্তপারের বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া জ্বালানি রূপান্তরকে সফল করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেও মত দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থা, বিদ্যুৎ কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পথ

জ্বালানি রূপান্তরের সাফল্য শুধু কত গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো বা কত বিনিয়োগ এলো তার ওপর নির্ভর করবে না। প্রকৃত সাফল্য হবে এমন একটি অর্থনীতি ও সমাজ গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং সহনশীল ভিত্তি তৈরি করবে।