০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর বাতিল করল পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালত

পাকিস্তানের পোলট্রি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে দেশটির ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এফসিসি) ঘোষণা করেছে, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও পোলট্রি খামারিদের অতিরিক্ত বিক্রয় কর দিতে হবে না। বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে আসা এই সিদ্ধান্তকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালত লাহোর হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল করে জানিয়েছে, নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য সরবরাহের কারণে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর আরোপ করা বিক্রয় কর ব্যবস্থার মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কী ছিল বিরোধের মূল বিষয়

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কর কর্তৃপক্ষের এক আদেশকে ঘিরে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন খামারিদের কাছে পণ্য বিক্রি করে যারা কর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত নন, তাহলে তাদের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

No extra tax on poultry feed makers, rules FCC - Pakistan - DAWN.COM

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েকটি পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হয়। পরে বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে গড়ায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, আইন অনুযায়ী কিছু খাত কর ছাড়ের সুবিধা পায় এবং এসব ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও থাকে না। পোলট্রি খামারিরা এমনই একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আদালত মনে করে, যাদের আইনই নিবন্ধনের বাইরে রেখেছে, তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার কারণে উৎপাদকদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো অযৌক্তিক। বাস্তবে এই অতিরিক্ত করের বোঝা শেষ পর্যন্ত খামারিদের ওপরই গিয়ে পড়ত, যা পুরো কর ব্যবস্থার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে আরও বলা হয়, বিক্রয় কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধনকে উৎসাহিত করাই সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার বাইরে, তাদের ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রয়োগ করা যায় না।

আগের নজিরের উল্লেখ

Court Declares 4% Extra Tax on Unregistered Poultry Farms Illegal

আদালত একই ধরনের একটি পুরোনো মামলার কথাও স্মরণ করেছে। ২০২১ সালে লাহোর হাইকোর্ট বরফ প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছিল এবং বলেছিল, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত কর দিতে বাধ্য নয়। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

বর্তমান মামলায় সাংবিধানিক আদালত বলেছে, লাহোর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় আইনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রতিফলিত করেনি। ফলে কর কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশও টেকসই নয়।

পোলট্রি শিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খামারিদের জন্য আর্থিক চাপ কমাবে। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোলট্রি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। অতিরিক্ত করের বোঝা না থাকায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে পোলট্রি খাতের জন্য একটি দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। ফলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা এখন নতুন বাজেটের আগে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।

No additional sales tax for Poultry: FCC

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ

পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য স্বস্তি, অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর বাতিল করল পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালত

০১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের পোলট্রি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে দেশটির ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এফসিসি) ঘোষণা করেছে, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও পোলট্রি খামারিদের অতিরিক্ত বিক্রয় কর দিতে হবে না। বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে আসা এই সিদ্ধান্তকে শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালত লাহোর হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল করে জানিয়েছে, নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য সরবরাহের কারণে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর আরোপ করা বিক্রয় কর ব্যবস্থার মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কী ছিল বিরোধের মূল বিষয়

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কর কর্তৃপক্ষের এক আদেশকে ঘিরে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন খামারিদের কাছে পণ্য বিক্রি করে যারা কর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত নন, তাহলে তাদের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

No extra tax on poultry feed makers, rules FCC - Pakistan - DAWN.COM

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েকটি পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হয়। পরে বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে গড়ায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, আইন অনুযায়ী কিছু খাত কর ছাড়ের সুবিধা পায় এবং এসব ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও থাকে না। পোলট্রি খামারিরা এমনই একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আদালত মনে করে, যাদের আইনই নিবন্ধনের বাইরে রেখেছে, তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার কারণে উৎপাদকদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো অযৌক্তিক। বাস্তবে এই অতিরিক্ত করের বোঝা শেষ পর্যন্ত খামারিদের ওপরই গিয়ে পড়ত, যা পুরো কর ব্যবস্থার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে আরও বলা হয়, বিক্রয় কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধনকে উৎসাহিত করাই সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার বাইরে, তাদের ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রয়োগ করা যায় না।

আগের নজিরের উল্লেখ

Court Declares 4% Extra Tax on Unregistered Poultry Farms Illegal

আদালত একই ধরনের একটি পুরোনো মামলার কথাও স্মরণ করেছে। ২০২১ সালে লাহোর হাইকোর্ট বরফ প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছিল এবং বলেছিল, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত কর দিতে বাধ্য নয়। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

বর্তমান মামলায় সাংবিধানিক আদালত বলেছে, লাহোর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় আইনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রতিফলিত করেনি। ফলে কর কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশও টেকসই নয়।

পোলট্রি শিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খামারিদের জন্য আর্থিক চাপ কমাবে। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোলট্রি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। অতিরিক্ত করের বোঝা না থাকায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাংবিধানিক আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে পোলট্রি খাতের জন্য একটি দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। ফলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা এখন নতুন বাজেটের আগে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন।

No additional sales tax for Poultry: FCC